প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ইউটিআই? জল ছাড়াও এই খাবারগুলোই আপনার মোক্ষম দাওয়াই!

শরীর কষে গেলে, জল কম খেলে, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খেলে অথবা হাই ডোজের ওষুধ সেবন করলে শরীরে নানান সমস্যা দেখা যায়। বিশেষত, শরীর কষে গেলে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া অনুভব হয়, যাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলা হয় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)। এই জটিল সমস্যায় কম-বেশি অনেকেই ভুগে থাকেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা হলে কিডনির সমস্যাও হতে পারে। এই সমস্যার একটি মোক্ষম ওষুধ হলো পর্যাপ্ত জল পান। তবে জল ছাড়াও কিছু নির্দিষ্ট খাবার আপনার পাতে রাখলে এই রোগ থেকে রেহাই মিলতে পারে।
ইউটিআই প্রতিরোধে কার্যকর কিছু খাবার:
১. জল: প্রস্রাবের ইনফেকশনের একটাই মোক্ষম ওষুধ হলো জল। প্রচুর পরিমাণে জল পান করা যেমন জরুরি, তেমনই নিয়মিত খাদ্য গ্রহণও প্রয়োজন। শুধু জল পান করে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন, তাই এর পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
২. ব্রকোলি: ব্রকোলিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। ব্রকোলি প্রস্রাবকে অ্যাসিডিক করে ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দেয়। একইসঙ্গে ব্রকোলিতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে।
৩. রসুন: রসুনকে বলা হয় ‘গরিবের পেনিসিলিন’। রসুনের মধ্যে এমন কিছু উপকারী উপাদান থাকে যা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ইউরিনে ইনফেকশন হলে কাঁচা রসুন খাওয়া খুব উপকারী।
৪. পেঁপে: পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং প্রস্রাবেও অ্যাসিডিটি বাড়ায়। পেঁপে খেলে ইনফেকশন তৈরিতে দায়ী ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না।
৫. ক্র্যানবেরি জুস: প্রস্রাবের ইনফেকশনের যন্ত্রণাটা মারাত্মক। এক্ষেত্রে ক্র্যানবেরি জুস প্রস্রাবের ইনফেকশন দূর করতে দারুণ কার্যকরী। ক্র্যানবেরি শরীর থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বার করতে সাহায্য করে।
৬. দারুচিনি: প্রস্রাবের ইনফেকশনে দারুণ কাজ করে দারুচিনি। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসেবে বহু বছর ধরেই দারুচিনি সমাদৃত। এটি শরীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাড়তে দেয় না। ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার জন্য দায়ী ই-কোলি (E.coli) ভাইরাসকে প্রতিরোধ করে দারুচিনি।
এই খাবারগুলো আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউটিআই-এর ঝুঁকি কমাতে পারেন এবং এর উপসর্গগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে, যদি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা গুরুতর আকার ধারণ করে, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।