তামাশা শিল্পের রানি বিথাবাই! শ্রদ্ধার বায়োপিক নিয়ে চর্চা তুঙ্গে, জেনে নিন তাঁর সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প

বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে বেরিয়ে একেবারে মাটির কাছাকাছি এক লোকশিল্পীর চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ছেন শ্রদ্ধা কাপুর। তাঁর আসন্ন ছবি ‘ইথা’ নিয়ে নেটদুনিয়ায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা। এই ছবিটি নির্মিত হয়েছে কিংবদন্তি মারাঠি লোকশিল্পী বিথাবাই ভাউ মাং নারায়ণগাঁওকরের জীবনী অবলম্বনে। কিন্তু কে এই বিথাবাই? কেন তাঁকে আজও ‘তামাশা সম্রাজ্ঞী’ বলে সম্মান জানানো হয়?

শিল্পের নেশায় শৈশব ত্যাগ ১৯৩৫ সালে সোলাপুরের পান্ধারপুরে জন্মগ্রহণ করেন বিথাবাই। তাঁর পরিবার ছিল আদ্যোপান্ত শিল্পী পরিবার। দাদু নারায়ণ খুদে কলাপাঠক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আর বাবা ভাউ বাপু মাং নারায়ণগাঁওকরের ছিল নিজস্ব নাচ-গানের দল। মাত্র চার-পাঁচ বছর বয়সেই শিল্পের নেশায় স্কুল ছেড়ে বাবার ট্রুপের সঙ্গে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন বিথাবাই। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাবার ট্রুপে নাচ, গান ও সংলাপে পারদর্শী হয়ে ওঠেন তিনি।

বাবার দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বিথাবাইয়ের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিলেন তাঁর বাবা। ১৯৫৭ সালে যখন তাঁর বাবা প্রয়াত হন, তখন শোকের ছায়ায় ভেঙে পড়লেও শিল্পীসত্তা হারাননি বিথাবাই। বরং তিনি বাবাকে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি পালন করতে আজীবন অবিচল থেকেছেন। তিনি কথা দিয়েছিলেন, যাই ঘটুক না কেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মঞ্চে দর্শককে বিনোদন দিয়ে যাবেন। অসুস্থতা বা প্রতিকূল পরিস্থিতি—কোনও কিছুই তাঁকে তাঁর প্রিয় ‘তামাশা’ পরিবেশনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি।

তামাশা শিল্পকে নতুন উচ্চতায় বোন রমাবাই ও কেশরবাইয়ের কাছে লাবণী নৃত্যের তালিম নেওয়া বিথাবাই মাত্র ১৩ বছর বয়সেই (১৯৪৮ সালে) নিজের পৃথক তামাশা ট্রুপ শুরু করেন। তাঁর মোহময়ী নৃত্যশৈলী ও অপূর্ব কণ্ঠস্বর মহারাষ্ট্রের এই লোকশিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। স্বামী মারুতি সাওয়ান্তের সাথেও তিনি দীর্ঘসময় শিল্পের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।

এখন দেখার, শ্রদ্ধা কাপুর তাঁর অনবদ্য অভিনয়ে রুপোলি পর্দায় বিথাবাইয়ের এই লড়াই, যন্ত্রণা ও সাফল্যের গল্প কতটা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। ‘ইথা’ যে দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করবে, তা নিয়ে সংশয় নেই।