ডাটা সেন্টার বনাম জলবায়ু সংকট! ভারতের ডিজিটাল বিপ্লব কি বড় বিপদের মুখে?

ভারত এখন বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল পরিকাঠামোর হাব বা কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ক্লাউড পরিষেবার প্রসারে দেশজুড়ে তৈরি হচ্ছে একের পর এক বিশাল ডাটা সেন্টার। কিন্তু এই অগ্রগতির পথেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতি। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কি ভারতের এই ডিজিটাল বিপ্লবকে থামিয়ে দেবে? সম্প্রতি XDI (Cross Dependency Initiative)-এর একটি রিপোর্ট এই বিষয়ে বড়সড় সতর্কবার্তা দিয়েছে।
কেন চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা? ডাটা সেন্টার মানেই হাজার হাজার সার্ভারের অবিরাম কাজ। এর ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা ঠান্ডা রাখতে প্রয়োজন হয় শক্তিশালী ‘কুলিং সিস্টেম’। ভারতের মতো দেশে, যেখানে গ্রীষ্মের দাপটে তাপমাত্রা ৪৫–৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, সেখানে এই কুলিং ব্যবস্থা বজায় রাখা শুধু ব্যয়বহুলই নয়, বরং অত্যন্ত জটিল।
রিপোর্টের উদ্বেগজনক তথ্য:
জলের সংকট: সার্ভার ঠান্ডা রাখার জন্য প্রচুর শীতল জল ব্যবহৃত হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের যেসব এলাকায় আগে থেকেই জলের আকাল রয়েছে, সেখানে নতুন ডাটা সেন্টার তৈরি করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
‘ডাটা হিট আইল্যান্ড’: গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, বড় ডাটা সেন্টারগুলো আশপাশের স্থানীয় তাপমাত্রাও বাড়িয়ে দিচ্ছে, যাকে ‘ডাটা হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব বলা হচ্ছে।
বিদ্যুতের চাহিদা: ডিজিটাল পরিকাঠামোর ব্যাপক প্রসারে বিদ্যুতের চাহিদাও আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়তে কী প্রয়োজন? XDI-এর প্রতিষ্ঠাতা কার্ল ম্যালোন সতর্ক করে বলেছেন, “আমরা কেবল ডাটা সেন্টারের জল ও বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু এই অবকাঠামোগুলো জলবায়ুর ওপর যে স্থায়ী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ডাটা সেন্টার তৈরি করলেই হবে না, বরং প্রযুক্তিগত দিকেও নজর দিতে হবে। এমন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন যা পরিবেশের ক্ষতি কম করবে।
ভারত কি পিছু হটবে? ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ভারতের ডাটা সেন্টার ক্ষমতা ১.৫ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে এবং বিনিয়োগের জোয়ার অব্যাহত রয়েছে। সরকার ডিজিটাল পরিকাঠামো নিয়ে খুবই আশাবাদী। তবে বিশেষজ্ঞদের সাফ কথা—জল, বিদ্যুৎ এবং জলবায়ুগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক পরিকল্পনা না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটে পড়তে পারে দেশ।
ডিজিটাল ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও পরিবেশ রক্ষার লড়াই—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।