চোখের চারপাশের রিঙ্কেল? ঘরোয়া উপায়েই ফিরবে তারুণ্য!

মানবদেহের সবচেয়ে সুন্দর অঙ্গ হলো চোখ। চোখের মাধ্যমেই আমাদের সৌন্দর্যের অনেকটাই ফুটে ওঠে। চোখ সুন্দর হলে মুখের গঠনও অনেকটা বদলে যায়। কিন্তু সেই সুন্দর চোখের চারপাশে যদি রিঙ্কেল বা কোঁচকানো রেখা দেখা যায়, তাহলে তা সবার ক্ষেত্রেই অস্বস্তিকর।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অনেকের রিঙ্কেল বাড়তে থাকে। তবে যাদের কম বয়সেই চোখের চারপাশের চামড়া কুঁচকে যায়, তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। এজন্য নানান ধরনের পণ্য ব্যবহার করেও অনেকে মুক্তি পান না এই সমস্যা থেকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।
রিঙ্কেল পড়ার প্রধান কারণ ও প্রতিরোধের উপায়:
সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি: রোদে অতিরিক্ত সময় কাটানো একদমই ঠিক নয়। সূর্যের রশ্মি ত্বকের ব্যাপক ক্ষতি করে। আমাদের চোখ তীব্র সূর্যের আলো সহ্য করতে পারে না। তাই রোদে বেশি সময় ব্যয় করার কারণে মুখে রিঙ্কেল দেখা যায়। বাইরে বেরোলে অবশ্যই সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
চোখ ঘষার অভ্যাস: অনেকেরই ঘনঘন চোখ ঘষার অভ্যাস থাকে। এই কারণে চোখের চারপাশে রিঙ্কেল পড়ে যায়। চোখ ঘষার ফলে চোখের পেশীগুলোর ক্ষতি হয়, যা অকালে রিঙ্কেল পড়ার কারণ হতে পারে। এই অভ্যাস দ্রুত ত্যাগ করুন।
ধূমপান: যাদের ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে, তাদের মুখেও রিঙ্কেলস দেখা যায়। ধূমপানে অনেক বিষাক্ত পদার্থ থাকে যা ত্বকের ক্ষতি করে এবং অকালে বার্ধক্যের ছাপ ফেলে।
চোখ কুঁচকে হাসির অভ্যাস: অনেকের আবার চোখ কুঁচকে হাসির অভ্যাস রয়েছে। এর ফলে পেশীগুলোর উপর চাপ পড়ে এবং সেগুলো দুর্বল হয়ে যায়। যার ফলে চোখে কোঁচকানো রেখা দেখা যায়। হাসার সময় স্বাভাবিক থাকুন, পেশীগুলোতে অতিরিক্ত চাপ দেবেন না।
রিঙ্কেল কমাতে কার্যকরী ঘরোয়া উপাদান:
চোখের চারপাশের রিঙ্কেল কমাতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে:
আনারস: আনারসে থাকা ব্রোমেলিন নামক এনজাইম রিঙ্কেল কমাতে খুব কার্যকর। যে জায়গাগুলোতে রিঙ্কেল পড়েছে, সেখানে আনারসের জুস লাগান। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার চোখের চারপাশে কোঁচকানো রেখা কমিয়ে দেবে।
শসা: শসা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করার পাশাপাশি রিঙ্কেলস কমাতেও সহায়তা করে। এছাড়া শসা ডার্ক সার্কেল এবং পিগমেন্টেশন হ্রাস করতেও খুব কার্যকর। চোখের উপর শসার টুকরো রেখে বা শসার রস ব্যবহার করে উপকার পেতে পারেন।
অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল দিয়ে চোখের চারপাশে মালিশ করলে রিঙ্কেলের সমস্যা কমে। এটি ব্যবহার করলে ত্বক ময়েশ্চারাইজ থাকে, আবার মুখের সূক্ষ্ম রেখাও কম হয়। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে হালকা হাতে মালিশ করতে পারেন।
দই ও লেবুর রস: দইয়ের মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দই ব্যবহার করলে মুখের মৃত ত্বক দূর হবে এবং চোখের চারপাশের পেশীগুলোও মজবুত হবে।