গ্রীষ্মের ফল আম, কখন খাবেন আর কখন নয়? পুষ্টিবিদরা কী বলছেন?

গ্রীষ্মকাল মানেই আমের ম ম গন্ধ আর রসালো স্বাদের হাতছানি। ভিটামিন সি, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণে ভরপুর আম নিঃসন্দেহে একটি উপকারী ফল। কিন্তু সারাদিন ধরে আম খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য সবসময় ভালো? পুষ্টিবিদরা বলছেন, আমের অনেক স্বাস্থ্যগুণ থাকলেও, দিনের যেকোনো সময় আম খাওয়া শরীরের জন্য ভালো নাও হতে পারে। আম খাওয়ার সঠিক নিয়ম না মানলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে।

আমের অপকারিতা: জেনে নিন কখন আম খাবেন না
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে বা দুপুরে আম খাওয়া ভালো হলেও সূর্য অস্ত যাওয়ার পর অর্থাৎ বিকেলের পর আম খাওয়া মোটেও ভালো নয়। রাতে আম খেলে নানারকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে:

হজমে সমস্যা: রাতের বেলায় আম খেলে হজম প্রক্রিয়া শ্লথ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বদহজম, পেট ব্যথা বা গ্যাসের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ওজন বৃদ্ধি: আমে উচ্চ ক্যালরি এবং শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। রাতে আম খেলে তা সঠিকভাবে হজম না হওয়ায় ওজন বেড়ে যেতে পারে।
অনিদ্রার সমস্যা: আমে উচ্চ প্রোটিন থাকার কারণে রাতে আম খেলে অনিদ্রার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীর ক্লান্ত থাকলেও সহজে ঘুম আসতে চায় না।
কিডনির সমস্যা বৃদ্ধি: অতিরিক্ত পরিমাণে আম খেলে কিডনির সমস্যা বাড়ার ঝুঁকি থাকে। যাদের কিডনির সমস্যা বা কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের আম বেশি খাওয়া উচিত নয়।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অতিরিক্ত আম খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে। এতে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে, ফলে শারীরিক নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কখন খাবেন আম?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে বা দুপুরে আম খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এই সময় শরীর আমের পুষ্টিগুণ ভালোভাবে শোষণ করতে পারে এবং হজম প্রক্রিয়াও ঠিকঠাক থাকে। আপনি চাইলে সকালের নাস্তার সাথে অথবা দুপুরের খাবারের এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর আম খেতে পারেন। এতে শরীর আমের সমস্ত উপকারিতা গ্রহণ করতে পারবে।