ক্যান্সারের নাম শুনলেই আতঙ্কিত হন অনেকেই। এই নীরব ঘাতক কখন শরীরে বাসা বাঁধবে, তা বোঝা বেশ কঠিন। তবে জীবনযাত্রার অনিয়ম এবং বিভিন্ন ধরনের নেশাই মূলত ক্যান্সারের পথ প্রশস্ত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ ও গলার ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য।
তবে শরীরে এই রোগের উপস্থিতি কিছু লক্ষণ দেখে আগেভাগে আঁচ করা সম্ভব। তাই সেই লক্ষণগুলো সম্পর্কে জেনে নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। মুখ বা গলার ক্যান্সারের ক্ষেত্রে দাঁতে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক সেই লক্ষণগুলো কী কী-
দাঁতে পড়বে অস্বাভাবিক ছাপ:
মুখের ক্যান্সারে দাঁতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দাঁতে তীব্র ব্যথা, বয়সের আগেই দাঁত নড়ে যাওয়া এবং চোয়ালে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা শুধু নেশাকেই এর কারণ হিসেবে দেখেন না, বরং ভাঙা দাঁতের ক্ষয় থেকেও এমন ক্যান্সার হতে পারে বলে সাবধান করছেন। ক্ষয়ে যাওয়া দাঁতের কারণে অনেক সময় গালে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না করালে সেই ক্ষত ক্যান্সারের রূপ নিতে পারে।
কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন:
যদি হঠাৎ করে কথা বলতে বলতে গলা ভেঙে যায় বা গলার স্বর পরিবর্তিত হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় ধরে গলা ধরে থাকা বা নাক বন্ধ থাকাও ভালো লক্ষণ নয়। কারণ ন্যাসোফ্যারিঞ্জিল, ল্যারিঞ্জিল বা ভোকাল কডে ক্যান্সার বাসা বাঁধলে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
খাবার গিলতে অসুবিধা:
শক্ত বা তরল খাবার গেলার সময় যদি কোনো কারণে ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে সতর্ক হন। খেয়াল রাখুন, প্রতিবার খাবার খাওয়ার সময় একই সমস্যা হচ্ছে কি না। এটি গলার বা ইসোফ্যাগিয়াল ক্যান্সারের উপসর্গ হতে পারে।
মুখে দুর্গন্ধ:
দিনে দুবার দাঁত মাজা এবং মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরেও যদি মুখের দুর্গন্ধ না কমে, তাহলে এখনই সাবধান হওয়া উচিত। কারণ এই দুর্গন্ধের পেছনে ক্যান্সারের হাত থাকতে পারে। এছাড়াও, বারবার মুখে আলসার হলেও সতর্ক থাকুন, কারণ এটিও মুখ ক্যান্সারের উপসর্গ হতে পারে।
শক্ত কিছু অনুভব করা:
গলা, মুখের ভেতর বা ঘাড়ে কোনো শক্ত ডেলা বা মাংসপিণ্ডের মতো অনুভব করলে তা অবহেলা না করে সতর্ক হন। মনে রাখবেন, এটি ক্যান্সার কোষের প্রাথমিক পর্যায়ে বিস্তার হতে পারে।
চোয়াল নাড়াতে সমস্যা:
হাড়, মাংসপেশী বা ঘাড়ের স্নায়ুতে ক্যান্সার থাবা বসালে অনেক সময় চোয়াল হঠাৎ করে আটকে যেতে পারে বা নাড়াতে অসুবিধা হতে পারে। তাই ছোটখাটো অসুবিধা ভেবে এই উপসর্গগুলো এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলোর কোনোটি যদি আপনি অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে মুখের বা গলার ক্যান্সারের চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।