সিনেমা নিয়ে বাড়াবাড়ি? রুমিন ফারহানার হুঁশিয়ারি, বিতর্কের মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

একটি সিনেমা, কয়েক ঘণ্টার গল্প, আর কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন—এসব ছাপিয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এখন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অসহিষ্ণুতার এক জ্বলন্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই চলচ্চিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনী ঘিরে যে নাটকীয় এবং উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল একটি সিনেমার প্রদর্শনী আটকানোর ঘটনা নয়, বরং এটি বাক্‌স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনীর পরিকল্পনা থেকে। কিন্তু কওমি শিক্ষার্থীদের একটি অংশের তীব্র বিরোধিতা এবং হুমকির মুখে আয়োজকরা ভেন্যু বদল করতে বাধ্য হন। অভিযোগ রয়েছে, বারবার বিকল্প ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তা ভেস্তে যায়। প্রশ্ন উঠছে, সরকার অনুমোদিত এবং সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়া একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে বাধা দেওয়ার অধিকার কার?

এই ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নাট্যকর্মী, চলচ্চিত্র নির্মাতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন। তিনি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে জানান, “মাজার ভাঙা, কবর থেকে লাশ তোলার মতো উগ্রবাদী ঘটনা দেখে এসেছি। এখন বৈধ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও যদি এভাবে বন্ধ করা হয়, তবে নতুন প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”

পরিচালক তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছবিটি মুক্তির পর থেকেই প্রশংসিত হয়েছে। শিল্প ও সংস্কৃতির সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু সেই সমালোচনা যখন নিষেধাজ্ঞার রূপ নেয়, তখন তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘকাল ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য ও সঙ্গীতচর্চার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত, সেই শহরেই এমন কট্টরপন্থী হস্তক্ষেপ সংস্কৃতিপ্রেমীদের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, চলচ্চিত্র কি সত্যিই এত শক্তিশালী যে তাকে ভয় পেতে হয়? নাকি ভয়ের আসল কারণ সেই প্রশ্নগুলো, যা সিনেমা মানুষের মনে জাগিয়ে তোলে? বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজেক্টর থামিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু মানুষের কৌতূহল বা শিল্পবোধকে দাবিয়ে রাখা অসম্ভব। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে হয়তো একটি পর্দার পতন ঘটেছে, কিন্তু এটিই চলচ্চিত্রটিকে বৃহত্তর আলোচনার কেন্দ্রে টেনে এনেছে। এই বিতর্ক প্রমাণ করে যে, অন্ধকার যতই ঘন হোক, শিল্পের পথ চলার গল্পগুলো শেষ পর্যন্ত নিজের গতি খুঁজে নেবেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy