সিনেমার পর্দা ছেড়ে কি রাজনীতির ময়দানে ভূমি? বাবার পথ অনুসরণ করবেন অভিনেত্রী?

বলিউড তথা টিনসেল টাউনের অন্দরে কান পাতলেই এখন নতুন এক জল্পনা শোনা যাচ্ছে। বিটাউনের অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর কি এবার অভিনয় জগত ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে পা রাখতে চলেছেন? দক্ষিণী সুপারস্টার তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপথি বিজয়ের রাজনৈতিক উত্তরণের পর থেকেই বলিপাড়ায় এমন প্রশ্ন জোরদার হচ্ছে। বিশেষ করে ভূমির পারিবারিক প্রেক্ষাপট এবং সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই চর্চাকে আরও উসকে দিয়েছে।

ভূমি পেডনেকরের বাবা সতীশ পেডনেকর মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি একসময় মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র ও শ্রমমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতি এবং জনসেবার আবহে বেড়ে ওঠা ভূমির রক্তে দেশের সেবা করার তাড়না যে বিদ্যমান, তা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। সম্প্রতি এনডিটিভি মারাঠি আয়োজিত ‘মঞ্চ’ অনুষ্ঠানে নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভূমি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আভাস দিয়েছেন।

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ভূমি কোনও রাখঢাক না করেই জানিয়েছেন, “দেশের সেবা করা আমার রক্তে মিশে রয়েছে। সেই সেবা যে রূপই গ্রহণ করুক না কেন, আমি সর্বদা তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। বর্তমানে আমি অভিনয়ের মাধ্যমে গল্প বলার চেষ্টা করছি এবং সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করছি। তবে ভবিষ্যতে যদি আরও গভীর ও অর্থপূর্ণভাবে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ আসে, তবে কেন নয়?” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানের বলিউড তারকাদের একাংশ এখন রাজনীতির দিকে ঝুঁকছেন। থালাপথি বিজয় যেভাবে অভিনয়ের সাফল্যকে জনসেবায় রূপান্তর করেছেন, ভূমির বক্তব্যে সেই একই ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ভূমি বর্তমানে তাঁর চলচ্চিত্র কেরিয়ারের মধ্যগগনে রয়েছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া ক্রাইম থ্রিলার সিরিজ ‘দলদল’-এ তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে একটি কোর্টরুম ড্রামা ঘরানার ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, যেখানে তাঁকে একজন আইনজীবীর চরিত্রে দেখা যাবে। হিমাচল প্রদেশের মনোরম পরিবেশে এই ছবির সিংহভাগ শ্যুটিং হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগেও ‘বালা’ ছবিতে আইনজীবীর ভূমিকায় অভিনয় করে সৌন্দর্য ও সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন ভূমি। অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি যে বলিষ্ঠ বার্তা দিতে পছন্দ করেন, রাজনীতিতে এলে সেই মানসিকতাই তিনি কাজে লাগাতে পারবেন বলে মনে করছেন ভক্তরা। যদিও অভিনেত্রী বর্তমানে তাঁর বর্তমান সিনেমাগুলোর কাজ শেষ করার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন, তবুও রাজনীতির দরজা যে তাঁর জন্য খোলা, সেই বার্তাই তিনি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি মহারাষ্ট্রের রাজনীতির মূলস্রোতে সক্রিয় হন কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy