রুপোলি পর্দার তারকা নয়, মিউজিক ভিডিওতে এবার আপনারাই নায়ক! ‘মা’-এর হাত ধরে আবেগঘন নতুন উদ্যোগ

মাকে নিয়ে গান তো অনেক তৈরি হয়েছে, কিন্তু সেই গানের মিউজিক ভিডিও যদি তৈরি হয় আপনার আর আপনার মায়ের সত্যিকারের স্মৃতি দিয়ে? এবার এমনই এক অভিনব উদ্যোগ নিয়ে হাজির হয়েছে SVF Music ও Hooligaanism। ‘Melar Gaan’ বা ‘Ek Minute-er Chumu’-র অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার তাঁরা নিয়ে এসেছেন তাঁদের নতুন গান ‘Maa’। ইতিমধ্যেই মিউজিক প্ল্যাটফর্মে গানটি ঝড় তুলেছে, আর আজ, ১৪ অগস্ট ২০২৬, মুক্তি পেতে চলেছে এর বহু প্রতীক্ষিত অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও।
এই ভিডিওটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এতে কোনো পেশাদার অভিনেতা বা কাল্পনিক গল্প নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ তাঁদের মায়ের সঙ্গে কাটানো সত্যিকারের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছেন। সেই ব্যক্তিগত আবেগ ও স্মৃতিগুলোকেই বুনে তৈরি করা হয়েছে ভিডিওটি। অর্থাৎ, দর্শক শুধু গান শুনবেন না, ভিডিওতে নিজেদের জীবনের এক টুকরো অংশও খুঁজে পাবেন।
গানটি লিখেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। অনির্বাণের পাশাপাশি দেবরাজ ভট্টাচার্য ও শুভদীপ গুহর সুরে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অনির্বাণ, দেবরাজ ও শুভদীপ। মায়ের নিঃশর্ত ভালোবাসা, ত্যাগ এবং ছোটবেলার সেই স্মৃতিগুলো, যা সময়ের সাথে ঝাপসা হয় না, তার গভীর আবেগই ধরা পড়েছে এই গানে। শুরুতে AI-এর কারিগরি দক্ষতায় এই গানের ভিজ্যুয়াল পরিচয় তৈরি করা হলেও, এবার তা কল্পনার জগত থেকে বেরিয়ে সরাসরি বাস্তবের মানুষের জীবনে মিশে যাচ্ছে।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে শুভদীপ গুহর এক ব্যক্তিগত ও মর্মান্তিক গল্প। ২০২০ সালে মহামারি চলাকালীন তিনি তাঁর মাকে হারান। সেই শূন্যতা ও যন্ত্রণা থেকেই এই গানের জন্ম। শুভদীপ জানিয়েছেন, অনির্বাণ যখন তাঁর মাকে নিয়ে লেখা এই গানটির প্রস্তাব দেন, তখন তা ছিল অত্যন্ত আবেগময় এক মুহূর্ত। অনির্বাণ ভট্টাচার্যের কথায়, “সবচেয়ে বিশেষ গানগুলো একজনের ব্যক্তিগত গল্প দিয়ে শুরু হয়, কিন্তু ধীরে ধীরে তা সবার গল্প হয়ে ওঠে।”
‘Maa’ গানটি আজ কেবল একটি সুর বা ছন্দ নয়, হয়ে উঠছে হাজারো মানুষের ভাগ করে নেওয়া এক আবেগ। ভিডিওটিতে স্থান পেয়েছে মায়ের সঙ্গে হাসির স্মৃতি, লড়াই আর নিঃশব্দ ত্যাগের বাস্তব মুহূর্ত। SVF Music ও Hooligaanism-এর এই প্রয়াস প্রমাণ করল যে, শ্রোতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কীভাবে একটি শিল্প সৃষ্টি সাধারণের হৃদয়ের খুব কাছের হয়ে উঠতে পারে। আজ ১৪ অগস্ট, তাঁদের প্ল্যাটফর্মে চোখ রাখলেই দেখতে পাবেন সেই ভিডিও, যেখানে হয়তো আপনার পাঠানো ছবি বা ভিডিওটিও হয়ে উঠবে হাজার হাজার মানুষের অনুভূতির অংশ। এটি শুধু গান নয়, এটি প্রতিটি সন্তানের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক অনন্য দলিল।