রিনা থেকে গৌরী— ধর্ম কি সত্যিই বাধা? সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে বিস্ফোরক আমির খান

আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে নেটদুনিয়ায় যে শোরগোল পড়েছিল, তাতে যেন ঘি ঢালছিল ‘লাভ জিহাদ’-এর মতো বিতর্কিত তকমা। কিন্তু এবার আর চুপ থাকলেন না মিস্টার পারফেকশনিস্ট। সমস্ত ট্রোলিং, গুজব আর কুৎসার বাতাবরণ এক নিমেষে বদলে দিতে আমির খান সোজাসুজি ময়দানে নামলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং তা ঘিরে তৈরি হওয়া ধর্মীয় বিতর্ক নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও শ্লেষ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা।
আমির স্পষ্টভাবে জানান, “গৌরী, কিরণ বা রিনা— কেউই বিয়ের জন্য নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেননি। আমাদের বিয়ে হয়েছিল ‘স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট’ বা সিভিল ম্যারেজের অধীনে।” শুধু তাই নয়, সমালোচকদের ভুল ভাঙিয়ে তিনি বলেন, “গৌরী হিন্দু নন, তিনি আদতে খ্রিস্টান। অথচ তাঁর বিষয়েও ভুল প্রচার চালানো হয়েছে।” ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এই অহেতুক জলঘোলা দেখে আমিরের সরস মন্তব্য, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনটা যেন বড্ড বেশি হাস্যকর হয়ে উঠছে!”
নিজের পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে আমির বলেন, তাঁদের পরিবারে আন্তঃধর্মীয় মেলবন্ধন বহু পুরনো। তাঁর দুই বোনের বিয়েই হয়েছে হিন্দু পরিবারে। এমনকি তাঁর নিজের মেয়েও ঘর বেঁধেছেন এক হিন্দু যুবকের সঙ্গে। তাঁর খুড়তুতো ভাই মনসুর খানের স্ত্রীও খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী। আমিরের সাফ কথা, তাঁদের পরিবারে ধর্মের নিক্তিতে ভালোবাসাকে মাপা হয় না, বরং পারস্পরিক আস্থা ও ভরসাই সম্পর্কের মূল ভিত্তি।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই মুম্বইয়ের পালি হিলে অত্যন্ত ঘরোয়া এবং ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন আমির খান। এটি তাঁর তৃতীয় বিয়ে। এর আগে ১৯৮৬ সালে রিনা দত্তকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। ১৬ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্যের পর ২০০২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৫ সালে পরিচালক কিরণ রাওয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আমির। ২০২১ সালে কিরণের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা করলেও, তাঁদের একমাত্র ছেলে আজাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব আমির ও কিরণ দুজনেই সমানভাবে পালন করে চলেছেন।
নতুন জীবনে পা দিতেই যেভাবে সমাজের একাংশ আমিরের ওপর ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার তকমা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, আমির যেভাবে যুক্তি দিয়ে তার মোকাবিলা করলেন, তা এখন নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আমির বুঝিয়ে দিলেন, বিদ্বেষ ছড়ানোর চেয়ে ভালোবাসার বন্ধন অনেক বেশি শক্তিশালী।