“বেস্ট ফ্রেন্ডকে হারানোর ক্ষত এখনও টাটকা!”-চোখের জল সামলে এ কী শোনালেন পর্দার ‘পল্লবী’?

টলিউডের চিরদিনের প্রিয় জুটি রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। পর্দায় তাঁদের রসায়ন যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, বাস্তবেও তাঁদের প্রেম ছিল রূপকথার মতো। কিন্তু বিধাতার নির্মম পরিহাসে আজ সেই রূপকথার এক অধ্যায় স্তব্ধ। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণের পর এক মাস পার হয়ে গিয়েছে। প্রিয় বন্ধু ও জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাহুলকে নিয়ে মুখ খুলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন তিনি।

“সবথেকে বেশি মিস করি বন্ধু রাহুলকে”

রাহুলের মৃত্যুর পর আইনি লড়াই থেকে শুরু করে তদন্তের দাবি— টলিপাড়ায় ঝড় কম ওঠেনি। তবে সবকিছুর মাঝেও প্রিয়াঙ্কা লড়াই চালাচ্ছেন একাকী। কাজে ফিরলেও রাহুলের অভাব তাঁকে প্রতি মুহূর্তে দগ্ধ করছে। প্রিয়াঙ্কার কথায়, “সবথেকে বেশি বন্ধু রাহুলকেই মিস করি। একুশ-বাইশ বছরের বন্ধুত্ব আমাদের। আমার সিনেমা দেখা, বই পড়া কিংবা চিন্তাভাবনার ধরণ— সবকিছুই গড়ে উঠেছে রাহুলের প্রভাবে। ও আমার জীবনের মেন্টর ছিল।”

ঝগড়াও মেটাতে পারত না গল্পের নেশা

বিচ্ছেদের সুর কাটিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আবার একসঙ্গেই থাকছিলেন এই তারকা জুটি। সেই স্মৃতিচারণ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “ও সবার খুব ভালো বন্ধু ছিল। আমরা যখন ঝগড়া করতাম, লোকে ভাবত আমাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। কিন্তু মজার বিষয় হলো, ঝগড়ার মাঝেও আমাদের আড্ডা থামত না। এখনও ওঁর রেকমেন্ড করা চার-পাঁচটা সিনেমা আমার দেখা বাকি আছে। ওঁর মতো স্পষ্ট ফিডব্যাক দেওয়ার মানুষ আর কেউ নেই আমার জীবনে।”

স্মৃতির পাতায় চিরদিনের সেই জুটি

২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবি দিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। সেই রিল লাইফ রোম্যান্স ২০১০ সালে পরিণতি পায় রিয়েল লাইফ বিয়েতে। মাঝে সম্পর্কের টানাপোড়েন চললেও ২০২৩ সাল থেকে ফের একসঙ্গে পথচলা শুরু করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর খেলায় এক মাস আগেই চিরতরে চলে যান রাহুল।

রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় আর্টিস্ট ফোরাম ও প্রিয়াঙ্কা। শোক বুকে নিয়েই প্রিয়াঙ্কা ডাক দিয়েছেন পরিবর্তনের। ওপারে ভালো থেকো রাহুল— এই প্রার্থনাই এখন অনুরাগীদের মনে।