পাকিস্তানে রহস্যজনক ‘সড়ক দুর্ঘটনা’, খতম জইশ-ই-মোহাম্মদের দাপুটে কম্যান্ডার মৌলানা সলমন!

পাকিস্তানের নিরাপদ আশ্রয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রভাবশালী কম্যান্ডার মৌলানা মহম্মদ সলমন আজহার এক রহস্যজনক ‘সড়ক দুর্ঘটনায়’ প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে একটি অজ্ঞাত পরিচয় যানবাহন তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এই শীর্ষ জঙ্গির। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান ঘাঁটি ‘মারকাজ-ই-সুবহান’-এ এক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা।

রহস্যে ঘেরা দুর্ঘটনা:
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে মৌলানা সলমন যখন রাস্তা পার হচ্ছিলেন, তখন একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাঁকে পিষে দিয়ে চলে যায়। আশ্চর্যজনকভাবে, জনবহুল এলাকায় এই ঘটনা ঘটলেও ঘাতক গাড়িটির কোনও হদিশ পায়নি পাক পুলিশ। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে আশ্চর্যজনকভাবে নীরবতা পালন করছে। তবে গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা ভুল হবে। গত বছর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই জইশ-ই-মোহাম্মদের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তাই এর পেছনে কোনও অন্তর্ঘাত বা ‘টার্গেটেড কিলিং’-এর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জইশের বড় ক্ষতি:
মৌলানা মহম্মদ সলমন জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সংগঠনের বিভিন্ন অপারেশনাল প্ল্যানিং এবং কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ মারকাজ-ই-সুবহানেই তাঁর নামাজে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। জইশের উচ্চপদস্থ কম্যান্ডারদের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর জানাজার ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

ভয়ের আবহে মারকাজ-ই-সুবহান:
গত এক মাসের কম সময়ের মধ্যে জইশের প্রধান ঘাঁটি থেকে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুর খবর। এর আগে সংগঠনের অপর এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল, যাকেও ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালানো হয়েছিল। পাঠানকোট থেকে পুলওয়ামা—একাধিক জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড এই সংগঠনটি বর্তমানে বড়সড় অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ে এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ধাক্কায় জইশ বর্তমানে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। সেই সময়ই এমন দাপুটে কম্যান্ডারের মৃত্যু জঙ্গি গোষ্ঠীর মনোবল ভেঙে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।