“শ্যামাপ্রসাদের বাংলা, বাবরের নয়”-ধর্মতলার আন্দোলনে দেশবিরোধী স্লোগান, তোপ শামিকের

NEET প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডের প্রতিবাদে গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলা চত্বরে চলা ছাত্র আন্দোলন একপ্রকার রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছিল। সেই হিংসাত্মক ও উত্তাল ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। দেশবিরোধী স্লোগান, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

কী বলেছেন শমীক ভট্টাচার্য?

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “দেশবিরোধী শক্তি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। মনে রাখতে হবে, এই সরকার শ্যামাপ্রসাদের সরকার, বাবরের সরকার নয়। আইন আইনের পথে চলবে, ভারত-বিরোধী স্লোগান দিলে সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ঘুরে যেতে হবে।” ধর্মতলার মিছিলে যেভাবে উশৃঙ্খলতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছে, তা দল বা সরকার কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবারের তাণ্ডব ও সাংবাদিক নিগ্রহ

গত শুক্রবারের আন্দোলন ঘিরে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। বিক্ষোভের নামে মিছিলে চলে অবাধ গুন্ডামি ও তাণ্ডব। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উন্মত্ত আন্দোলনকারীদের হাতে মার খেতে হয় একাধিক সাংবাদিককে। শুধু তাই নয়, কর্তব্যরত পুলিশকে লক্ষ্য করে জলের বোতল ও জুতো ছোঁড়ার মতো লজ্জাজনক ঘটনাও ঘটে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং প্রতিটিতে কড়া ‘গুন্ডা দমন আইন’ (Gunda Act) ধারা যুক্ত করা হয়েছে। আফরোজ, নাহিদ, তনভীর, রাহুল ও জামালদের মতো প্রধান অভিযুক্তদের তিন পুরুষ মনে রাখার মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধৃতের তৃণমূল যোগ নিয়ে শোরগোল

এদিকে ধর্মতলার এই ধুন্ধুমার কাণ্ডে ধৃত অন্যতম অভিযুক্ত আফরোজকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, ধৃত আফরোজ আদতে একজন শাসকদলের কর্মী। মেটিয়াবুরুজের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লার নির্বাচনী প্রচারের গাড়িতেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল।

শুধু তাই নয়, শাসকদলের একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তাঁর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যার ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই উন্নয়ন’। এমনকি তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতেও তাঁকে মিছিলে হাঁটতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের চূড়ান্ত পদক্ষেপ ও মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই অন্ডাল থেকে রাজাবাগানের বাসিন্দা এই আফরোজকে পাকড়াও করে পুলিশ। ধর্মতলার এই রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে শাসক-বিরোধী শিবিরের পারস্পরিক আক্রমণ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ফের চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে।