হঠাৎ পিছু হটলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী! বিমানবন্দর মসজিদ নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন

বিমানবন্দর চত্বরের মসজিদে অনির্দিষ্টকালের জন্য নমাজ পাঠ বন্ধের নির্দেশের জেরে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের পারদ তুঙ্গে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। মসজিদ চত্বরে বিশাল জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আজ সকালে আচমকাই সেই কর্মসূচি বাতিল করে পিছু হটলেন এই নেতা। আপাতত কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি হচ্ছে না বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর এই হঠাত্ পিছু হটার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আজ সকাল থেকেই বাঁকড়া এলাকা কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। এলাকায় যাতে কোনো অনভিপ্রেত অশান্তি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, তার জন্য বিধাননগর কমিশনারেট এবং প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। বাঁকড়া মোড় এলাকায় ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। যার অর্থ, এলাকায় চার বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

সকাল থেকেই বাঁকড়া ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই কোম্পানি সিআরপিএফ জওয়ান ও বিধাননগর কমিশনারেটের প্রায় ২৫০ জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় এলাকায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং দমকলের ইঞ্জিন। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকে অনবরত প্রচার চালানো হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ নিয়ম মেনে চলেন এবং কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। এমনকি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বাড়ি সংলগ্ন গলিতেও পুলিশের রুটমার্চ দেখা গেছে। বাইরে থেকে সন্দেহভাজন কাউকে এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, বিমানবন্দর অন্দরে নমাজ বন্ধের নির্দেশের পর থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সরকার ধর্মপালনে কোনো বাধা সৃষ্টি করছে না। কিন্তু জাতীয় সুরক্ষা এবং বিমানবন্দর চত্বরের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই বিতর্ককে কেন্দ্র করেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী পাল্টা জমায়েতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তবে আজ প্রশাসনের নজিরবিহীন সতর্কতায় এবং কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে শেষ পর্যন্ত শান্ত রয়েছে বাঁকড়া।

পুলিশি ধরপাকড় ও কঠোর নিরাপত্তার মাঝেও জনজীবনে স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। বাঁকড়া মোড় সংলগ্ন বিমানবন্দরের প্রধান রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ খোলা রয়েছে। আপাতত প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কোনো অশান্তির সম্ভাবনা দেখলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বিশাল বাহিনী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্দিকুল্লার এই কর্মসূচি বাতিলের পিছনে কি প্রশাসনের চাপ রয়েছে নাকি অন্য কোনো কৌশল, তা নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল।