জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কনে দেখা আলো’-এর প্রতিটি পরতে এখন টানটান উত্তেজনা। গল্পের প্রেক্ষাপটে অনুভবের ভয়াবহ অ্যাক্সিডেন্ট এবং তার পরবর্তী ঘটনাক্রম দর্শকদের রীতিমতো শিহরিত করে রেখেছে। ধারাবাহিকের সাম্প্রতিকতম পর্বে এমন এক মোড় এসেছে, যা অনুরাগীদের মনে তৈরি করেছে হাজারো প্রশ্ন। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর হাসপাতালে অনুভবের জ্ঞান ফিরলেও, তার আচরণের পরিবর্তন সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে।
গল্পের ধারা অনুযায়ী, হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর অনুভব পরিবারের সকলকে চিনতে পারলেও, লাজুকে দেখে সে একেবারেই চিনতে পারছে না। উলটে লাজুকে ‘আউটসাইডার’ বা বহিরাগত বলে সম্বোধন করে সে তাকে তার ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। অনুভবের এই আচরণে স্তম্ভিত লাজু এবং তার পরিবার। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অ্যাক্সিডেন্টের অভিঘাতে সত্যিই স্মৃতি হারিয়ে ফেলল অনুভব? লাজু কি সত্যিই তার জীবন থেকে মুছে গেল? নাকি অনুভবের এই আচরণের পেছনে রয়েছে অন্য কোনো গভীর রহস্য? অনেকে আবার সন্দেহ করছেন, অনুভব কি নিজেকে ইচ্ছাকৃতভাবে লাজুর থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছে?
ধারাবাহিকের গত কয়েক পর্বেই দেখা গিয়েছিল, হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অনুভব শুধুমাত্র লাজুকেই খুঁজছিল। ঠাম্মি যখন বুঝতে পারেন অনুভবের এই আকুতি, তখন তিনি আর চুপ থাকতে পারেননি। তিনি তড়িঘড়ি লাজুকে ফোন করে গ্রাম থেকে কলকাতায় ডেকে আনেন। সুদেব ও তার মায়ের কাছে মিথ্যে অজুহাত দিয়ে লাজু যখন হাসপাতালে পৌঁছায়, তখন সেখানে তুমুল অশান্তি তৈরি করে বনলতা। লাজুকে কিছুতেই অনুভবের কাছে যেতে দিতে রাজি ছিল না সে। কিন্তু ঠাম্মির জোরালো হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত লাজু অনুভবের কাছে পৌঁছাতে পারে। লাজুকে দেখার পর অনুভবের স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতিও হয়েছিল। তাহলে জ্ঞান ফেরার পর অনুভব কেন তাকে চিনতে পারছে না?
‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকটি শুরু থেকেই তার অভিনব চিত্রনাট্য ও লাজু-অনুভবের অনবদ্য রসায়নের কারণে টিআরপি তালিকায় দারুণ সাফল্য পাচ্ছে। তবে গল্পের এই নতুন মোড় দর্শকদের যেমন উদ্বিগ্ন করেছে, তেমনই তাদের মধ্যে কৌতুহলও তুঙ্গে। অনুভবের এই বিস্মৃতি কি কেবলই শারীরিক অসুস্থতার ফল, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো নেতিবাচক শক্তির কারসাজি? লাজু কি পারবে অনুভবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে? এই টানাপোড়েনের উত্তর পেতে এখন নিয়মিত চোখ রাখতে হবে ধারাবাহিকের আগামী পর্বগুলিতে। অনুরাগীদের দাবি, মেগার এই টুইস্ট তাদের একদমই প্রত্যাশিত ছিল না। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে লাজু কি হার মানবে, নাকি অনুভবের মনে নিজের জায়গা পুনরায় তৈরি করবে, সেটাই এখন দেখার মূল বিষয়।





