বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিং এবং ‘ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ’ (FWICE)-এর মধ্যকার দীর্ঘদিনের চাপা উত্তজনা এবার এক চরম আইনি মোড় নিল। ‘ডন ৩’ ছবি থেকে রণবীরের হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফেডারেশনের তরফে জারি করা ‘অসহযোগিতা’র নির্দেশের পাল্টা জবাব দিলেন খোদ অভিনেতা। মঙ্গলবার রণবীর সিং তাঁর আইনি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ওই সিনেমা কর্মী সংগঠনের বিরুদ্ধে একটি কঠোর আইনি নোটিশ জারি করেছেন, যা মুম্বইয়ের টিনসেল টাউনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
মূল সংঘাতের সূত্রপাত ফারহান আখতারের উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট ‘ডন ৩’-কে ঘিরে। প্রযোজনা সংস্থা এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের দাবি অনুযায়ী, ছবির প্রি-প্রোডাকশনের জন্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার পর, শ্যুটিং শুরুর ঠিক মুখে রণবীর সিং হঠাৎ ছবিটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। প্রযোজকদের এই অভিযোগের ভিত্তিতে এফডব্লিউআইসিই (FWICE)-এর সভাপতি অশোক পণ্ডিতের নেতৃত্বে ফেডারেশন রণবীরের বিরুদ্ধে ‘নন-কোঅপারেশন’ ডিরেক্টিভ জারি করে। যদিও ফেডারেশন এটিকে সরাসরি ‘ব্যান’ বলতে নারাজ, তবে কার্যত এই নির্দেশের ফলে বলিউডের কোনো টেকনিশিয়ান বা কর্মী রণবীরের কোনো প্রজেক্টে কাজ করতে পারবেন না—যা একপ্রকার নিষেধাজ্ঞা বা পেশাদার বয়কটেরই নামান্তর।
এই সংকটের প্রেক্ষিতে রণবীর সিংয়ের টিম বরাবরই দাবি করেছে যে, তিনি পেশাদার আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টিকে সমাধান করতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফেডারেশনের একপাক্ষিক পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়েই অভিনেতা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের কম্পিটিশন কমিশন অব ইন্ডিয়া (CCI)-এর রায় অনুযায়ী, ফেডারেশনের এই ধরনের বয়কটের নির্দেশ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো অভিনেতাকে এভাবে কাজ থেকে বিরত রাখার একচ্ছত্র অধিকার বা আইনি বৈধতা সংগঠনের নেই। রণবীরের এই পাল্টা আইনি নোটিশ প্রমাণ করে যে, তিনি ফেডারেশনের এই চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তকে সহজে মেনে নেওয়ার পাত্র নন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে রণবীর সিংয়ের ‘ডন’ হিসেবে প্রথম লুক প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬ সালের মাঝামাঝি এসে প্রজেক্টটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। রণবীরের আইনি পদক্ষেপের ফলে এখন ফেডারেশনকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে হবে। একদিকে প্রযোজক-পরিচালকদের আর্থিক ক্ষতির দাবি, অন্যদিকে অভিনেতার আইনি লড়াই—এই দুইয়ের যাঁতাকলে ‘ডন ৩’-এর ভাগ্য এখন বিশ বাঁও জলে। বলিউডের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠছে, আদালতের এই হস্তক্ষেপে কি রণবীর নিজের সম্মান ও কাজ ফিরে পাবেন, নাকি ফেডারেশনের সাথে এই তিক্ত সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে টিনসেল টাউনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে? এখন সমস্ত দৃষ্টি আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে।





