শর্তসাপেক্ষে খুলল গালিফ স্ট্রিট! কোন মাছ কিনবেন আর কোনটা নিষিদ্ধ? জানুন তালিকা

গত এক মাস ধরে চলা তীব্র আইনি টানাপোড়েন এবং অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে পুরোদমে চালু হয়েছে কলকাতার শতাব্দী প্রাচীন গালিফ স্ট্রিটের পশুপাখি ও মাছের হাট। তবে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ এবং কড়া পুলিশি নজরদারির মধ্যে এবার সম্পূর্ণ অন্যরূপে দেখা মিলল এই ঐতিহ্যবাহী হাটের। অবৈধ পশু-পাখি ও নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির মাছ বিক্রি রুখতে এখন থেকে কড়া বিধিনিষেধ মানতে হচ্ছে বিক্রেতাদের।

হাইকোর্টের নির্দেশ ও পুলিশের কড়া নজরদারি: গত মাসে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, শতাব্দী প্রাচীন এই হাটে এখন থেকে শুধুমাত্র বৈধ লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরাই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। এই আইনি জটিলতার জেরে গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত মাঝের তিনটি রবিবারে কার্যত বন্ধই রাখা হয়েছিল হাট। তবে দীর্ঘ বিরতির পর গত রবিবার (১১ অক্টোবর) কড়া পুলিশি নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেই বসল হাট। কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গোটা চত্বরে টহল দিচ্ছে এবং কী ধরনের বেচাকেনা চলছে, তার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন আধিকারিকরা।

কোন কোন মাছ বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা? প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, হাটে কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ বিক্রি করা যাবে না। নিষিদ্ধ মাছের তালিকার মধ্যে রয়েছে— অ্যারোয়ানা (Arowana), বিচির (Bichir), ডিস্টিকোডাস (Distichodus), ফেদার ফিশ, রেড টেইল ক্যাটফিশ, স্টিংরে, ডেনিসন বার্ব, অ্যালিগেটর গার, ডলার ফিশ ও এর বিভিন্ন প্রজাতি, আরাপাইমা, আফ্রিকান বাটারফ্লাই ফিশ, ডলফিন ফিশ, দেশীয় মাছ ও শামুক, লাল ও হলুদ বাদে অন্য প্রজাতির শ্রিম্প, স্নেকহেড ফিশ, হ্যামারহেড, কালার উইডো টেট্রা এবং ওয়াইল্ড ডিসকাস।

কোন মাছগুলি বিক্রির অনুমতি মিলল? অন্যদিকে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে টিনফয়েল বার্ব, টাইগার বার্ব, গোল্ডফিশ, বিভিন্ন প্রজাতির গোরামি, ক্লাউন লোচ, গাপ্পি, মলি, সোর্ডটেল, কই কার্প, ফাইটিং ফিশ, অ্যাঞ্জেল ফিশ, ডিসকাস এবং বিভিন্ন প্রজাতির টেট্রা বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই সমস্ত মাছ বিক্রির ক্ষেত্রেও বিক্রেতাদের কাছে নির্দিষ্ট অনুমতি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পুলিশি নজরদারির মধ্যে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে সমস্ত তথ্য যাচাই করার পরেই এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। শতাব্দী প্রাচীন এই হাটের ঐতিহ্য বজায় রেখে আইন মেনে ব্যবসা চালানোর জন্য প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সমিতি—উভয় পক্ষই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।