দাঁতের হাল দেখেই বোঝা যায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেমন! ইংল্যান্ড ও ডেনমার্কের তুলনা ফাঁস করল বড় সত্যি।

দাঁতের স্বাস্থ্য কি শুধুই মুখ বা চোয়ালের বিষয়? না কি এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে গোটা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আসল চিত্র? ইউনিভার্সিটি অব লিমরিকের গবেষক ও ডেন্টিস্ট বিক্রম নিরঞ্জনের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইউরোপের দুই ধনী ও উন্নত দেশ—ইংল্যান্ড এবং ডেনমার্কের ডেন্টাল কেয়ার ব্যবস্থার তুলনা করে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য পরিষেবা কতটা জনমুখী হতে পারে এবং কোথায় রয়েছে বড় ফাঁক।
ডেনমার্কে শিশু বয়স থেকেই দাঁতের যত্নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্কুলস্তর থেকে শুরু করে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে ডেন্টাল চেকআপ, ফ্লোরাইডের ব্যবহার এবং নিয়মিত সচেতনতার ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে ডেনমার্কে দাঁতের সমস্যাগুলো শুরুর আগেই রোধ করা সম্ভব হয়। এমনকি বয়স্করাও নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়ার সুযোগ পান। ফলস্বরূপ, ডেনমার্কের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
এর ঠিক উল্টো ছবি দেখা যায় ইংল্যান্ডে। সাম্প্রতিক জাতীয় সমীক্ষা অনুযায়ী, সেখানকার ৫ বছর বয়সী প্রায় ২৭ শতাংশ শিশুর দাঁতে পচন ধরা পড়েছে। সবচেয়ে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিশুদের এই সমস্যা অনেক বেশি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ছোট শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করার অন্যতম প্রধান কারণ এখন দাঁতের পচন। অন্যদিকে, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) অধীনে প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসায় দীর্ঘ অপেক্ষার পালা এবং সুযোগের অভাব মানুষকে চরম হতাশ করছে। প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ এনএইচএস-এর বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইংল্যান্ডের চিকিৎসাব্যবস্থা মূলত রোগ প্রতিরোধের চেয়ে জটিল চিকিৎসার পর্যায় শেষ করার ওপর বেশি জোর দেয়। অন্যদিকে, ডেনমার্কের মডেলে শুরু থেকেই রোগ প্রতিরোধের ওপর অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। ইংল্যান্ডে ফ্লোরাইডের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকলেও ডেনমার্কে টুথপেস্ট ও বার্নিশের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হয়। সবমিলিয়ে, দাঁতের সুরক্ষা এবং সঠিক স্বাস্থ্যনীতির ওপরই নির্ভর করে একটি দেশের সত্যিকারের সমৃদ্ধি।