ডায়াবেটিস? নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা খাবেন, এক নজরে দেখুন তালিকা?

বর্তমান যুগে অনিয়মিত জীবনযাত্রা এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ ঘরে ঘরে থাবা বসিয়েছে। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সুগার রোগীর সংখ্যা। তবে সুগার ধরা পড়া মানেই জীবন থেকে আনন্দ হারিয়ে যাওয়া নয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে নিজের ডায়েট বা খাদ্যতালিকা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ওষুধ ছাড়াই রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঠিক কী কী খাবেন?
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয়, ফলে রক্তে শর্করা বা গ্লুকোজ হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। তাই ডায়েটে ওটস, ডালিয়া, ব্রাউন রাইস এবং গোটা শস্য (Whole Grains) রাখা অত্যন্ত উপকারী।
সবুজ শাকসবজি: পালং শাক, মেথি, বাঁধাকপি, ব্রকলি এবং লাউয়ের মতো সবজিতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম থাকে এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মেলে। যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
করলা ও মেথি জল: তিতো জাতীয় খাবার বিশেষ করে করলার রস এবং রাতে ভিজিয়ে রাখা মেথির জল সকালে খালি পেটে খেলে রক্তের শর্করার মাত্রায় দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।
কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত ফল: ডায়াবেটিস রোগীদের সব ফল খাওয়া উচিত নয়। তবে পেয়ারা, আপেল, আমলকী এবং জামজাতীয় ফল (Berries) নিশ্চিন্তে খাওয়া যেতে পারে। এগুলিতে প্রাকৃতিক মিষ্টি থাকলেও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে।
প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: সয়াবিন, ডিমের সাদা অংশ, ছানা এবং কম তেলে রান্না করা মাছ ডায়েটে রাখা দরকার। পাশাপাশি কাঁচা বাদাম (যেমন আখরোট ও কাঠবাদাম) শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কী কী এড়িয়ে চলবেন? চিনিযুক্ত খাবার, মিষ্টি, কোল্ড ড্রিঙ্কস, ময়দা, প্রসেসড ফুড এবং অতিরিক্ত ফাস্টফুড পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। নিয়মিত পরিমিত খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাচলা করা সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি। সঠিক নিয়মানুবর্তিতা মেনে চললেই ডায়াবেটিসকে দূরে সরিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।