‘পরের ফুঁয়ে বাজে শঙ্খ!’ মাস্কের উসকানিমূলক মন্তব্যে হঠাৎ সায় রাহুল গান্ধীর? তুঙ্গে বিতর্ক!

শঙ্খের শক্ত খোলস থাকলেও তার নিজস্ব কোনো বুদ্ধি নেই; তাই সে অপরের দেওয়া ফুঁতেই বাজে। কিন্তু এই অন্যের ফুঁয়ে বাজার মাশুল অনেক সময় মারাত্মক হয়ে দাঁড়াতে পারে। সম্প্রতি টেক-সম্রাট ইলন মাস্ক ও ভারত সরকারের টানাপোড়েনের মাঝে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ঘিরে ঠিক এই প্রশ্নই উঠছে। বিদেশী টেক-দানবদের চাপ সৃষ্টির চালে জড়িয়ে পড়ে বিরোধী দল কি কোনো জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুকে হালকা করে ফেলছে?
সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ ইলন মাস্ক দাবি করেন, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক লাইসেন্স পেলেও ভারতে তারা আইনের সমস্ত শর্ত মেনেও কাজ শুরু করতে পারছে না। সেখানে পরোক্ষভাবে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির দিকে ইঙ্গিত করে কটাক্ষ করা হয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য—মায় ২০২৫-েই স্টারলিংককে প্রাথমিক লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, কেবল নিরাপত্তার খাতিরে স্পেকট্রাম বণ্টন ও বিদেশী বিনিয়োগের স্ক্রুটিনি বাকি রয়েছে। ভারতের মতো বিশাল ও সংবেদনশীল দেশে যে কোনো উপগ্রহ যোগাযোগ প্রযুক্তির সুরক্ষামূলক পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধী মাস্কের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দেশীয় রাজনীতিতে সরকারকে ঘেরা এক বিষয়, আর বিদেশী কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ ও জাতীয় সুরক্ষার দরকষাকষিতে বিদেশী ধনকুবেরের পাশে দাঁড়ানো অন্য বিষয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উপগ্রহ প্রযুক্তির এই যুগে প্রতিটি দেশকে তাদের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে। কোনো বিদেশী টেক-মোগলের বাণিজ্যিক চাপে নতিস্বীকার না করে ভারতের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।