ভারতের বিশাল যুবশক্তি কি কেবলই সংখ্যার খেলা? শিক্ষার আসল সত্য ফাঁস করল নতুন রিপোর্ট!

ভারতে তরুণ প্রজন্মের সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হলেও, কেবল বিশাল জনসংখ্যাই উন্নয়নের একমাত্র গ্যারান্টি হতে পারে না। প্রকৃত সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে যুবসমাজকে সঠিক শিক্ষা, দক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় কতটা দক্ষ করে তোলা যাচ্ছে তার ওপর। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে ভারতের প্রথাগত মানবসম্পদ গঠনের ধারণা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

বিগত এক দশকে ভারতে উচ্চশিক্ষার সামাজিক পরিধি অনেকটাই সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে উচ্চশিক্ষায় মোট ভর্তির সংখ্যা যেখানে ছিল ৩.৪২ কোটি, ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪.৫০ কোটিতে। বিশেষ করে নারী, তফসিলি জাতি, জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০ এই ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার উদ্দেশ্যে নমনীয় পাঠ্যক্রম, মাল্টিডিসিপ্লিনারি শিক্ষা এবং ‘একাডেমিক ব্যাংক অফ ক্রেডিট’-এর মতো উদ্ভাবনী পদক্ষেপ যুক্ত করেছে। সম্প্রতি বিহারে ২১১টি নতুন সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং ২,৪৫১ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের উদ্যোগ এই প্রশাসনিক ও কাঠামোগত প্রসারেরই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার ঘটলেও শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণা এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে বিরাট ব্যবধান রয়ে গেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী শিক্ষকের অভাব, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং অপর্যাপ্ত গবেষণাগার শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। ডিগ্রির সংখ্যা বাড়লেও শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে উপযুক্ত দক্ষতার অভাব বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে। প্রকৃত ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ পেতে হলে ভারতকে কেবল ডিগ্রি দেওয়ার কেন্দ্র না হয়ে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও মানসম্পন্ন শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।