জ্বরকে সাধারণ ঠাণ্ডা ভেবে ভুল করছেন? বড় বিপদের আগে জানুন কোন রোগ লুকিয়ে রয়েছে!

শরৎ কিংবা হেমন্তের এই সময়টায় হালকা শীতে জ্বর-সর্দি হওয়াকে অনেকেই সাধারণ ঋতুগত অসুস্থতা বা আবহাওয়া পরিবর্তনের ফল বলে ধরে নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াকে সবসময় সাধারণ ব্যাপার বলে উড়িয়ে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। বর্ষা-পরবর্তী এই সময়ে মশার উপদ্রব, পানিবাহিত নানা রোগ এবং শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে বিভিন্ন রোগের লক্ষণ প্রায় একই রকম হওয়ায়, ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়া আসল রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই সময়ে কোন কোন মারাত্মক রোগ বাসা বাঁধতে পারে শরীরে এবং কোন লক্ষণগুলিতে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

১. ডেঙ্গু: তীব্র জ্বর এবং শরীরের মারাত্মক ব্যথা এডিস মশার কামড়ে ছড়ানো ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বর্ষার পরেও বজায় থাকে, যদি বাড়ির আশপাশে বা টব, কুলার ও পাত্রে জল জমে থাকে।

  • প্রধান লক্ষণ: হঠাৎ করে উচ্চমাত্রার জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে যন্ত্রণা, পেশী ও গাঁটে ব্যথা, বমি ভাব এবং গায়ে ফুসকুড়ি।

  • সতর্কতা: জ্বর কমতে শুরু করলেই বিপদ কেটে গেছে এমন ভাবা ভুল। পেটে তীব্র ব্যথা, বারংবার বমি বা রক্তপাতের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যেতে হবে। নিজে থেকে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন খাওয়া থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকুন।

২. ম্যালেরিয়া: কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসলে সাবধান পরজীবী বাহিত ম্যালেরিয়া মশার কামড়ের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

  • প্রধান লক্ষণ: কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, পেশিতে টান, চরম ক্লান্তি এবং বমি ভাব।

  • সতর্কতা: এই ধরনের জ্বরকে কেবল ঠাণ্ডা লাগা বা সাধারণ ভাইরাস বলে অবহেলা করবেন না। দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা শুরু না করলে চরম দুর্বলতা, খিঁচুনি বা চেতনা হ্রাসের মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

৩. চিকুনগুনিয়া: গাঁটের তীব্র ব্যথা যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে ডেঙ্গুর মতোই অপর এক মশাবাহিত রোগ হলো চিকুনগুনিয়া, যার প্রাথমিক লক্ষণগুলির সঙ্গে ডেঙ্গুর মিল রয়েছে।

  • প্রধান লক্ষণ: হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন গাঁটে প্রচণ্ড ব্যথা। এর পাশাপাশি মাথাব্যথা ও চরম ক্লান্তি দেখা দেয়।

  • সতর্কতা: জ্বর সেরে যাওয়ার পরেও গাঁটের এই ব্যথা দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে থাকতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

৪. ইনফ্লুয়েঞ্জা ও শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস আবহাওয়া বদল, জনসমাগম এবং ভ্রমণের কারণে এই সময়ে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়।

  • প্রধান লক্ষণ: ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি-কাশি ও কোভিডের মতো ভাইরাসের কারণে হঠাৎ করেই জ্বর, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া এবং পেশিতে ব্যথা শুরু হয়।

  • সতর্কতা: শিশু, প্রবীণ ও গর্ভবতীরা এই ভাইরাসে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এই সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

৫. টাইফয়েড ও পানিবাহিত নানা রোগ দূষিত জল ও খাবার গ্রহণের ফলে টাইফয়েড কিংবা পেটের মারাত্মক সংক্রমণ বা গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস দেখা দিতে পারে।

  • প্রধান লক্ষণ: একটানা জ্বর, শারীরিক দুর্বলতা, পেটে অস্বস্তি এবং ক্ষুধামান্দ্য হলো টাইফয়েডের লক্ষণ। অন্যদিকে, পেটের সংক্রমণে ডায়ারিয়া ও বমি হতে পারে।

  • সতর্কতা: সবসময় ফোটানো বা নিরাপদ জল পান করুন এবং খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না।