বিক্ষোভের মানচিত্রে বড় বদল! জন্তর-মন্তর বাদ দিয়ে দিল্লির নতুন তিন ঠিকানা ঘোষণা করল কেন্দ্র

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই আইনশৃঙ্খলা ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। দিল্লি পুলিশের নতুন স্ট্যান্ডিং অর্ডার অনুযায়ী, গত তিন দশক ধরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সমার্থক হয়ে ওঠা ঐতিহাসিক ‘জন্তর-মন্তর’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভের নির্ধারিত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সামনে রেখে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীর বিক্ষোভ মানচিত্রে এক বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে।

দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার স্বাক্ষরিত নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, জন্তর-মন্তর চত্বর আর প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অনুমোদিত থাকবে না। এর পরিবর্তে বিক্ষোভ ও জনসভার জন্য রাজধানীতে নতুন তিনটি স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ‘রামলীলা ময়দান’, উত্তর দিল্লির ‘বুরাড়ি গ্রাউন্ড’ এবং পূর্ব দিল্লির ‘সিবিডি গ্রাউন্ড’। প্রশাসনের দাবি, ক্রমবর্ধমান যানজট এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতেই এই বিকল্প স্থানগুলোর রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে কিষাণ নেতা মহেন্দ্র সিং তিয়াতের নেতৃত্বে বোট ক্লাবে ঐতিহাসিক আন্দোলনের পর থেকেই জন্তর-মন্তর রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রধান পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিল। বিশেষ করে ২০১১ সালের আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে এই স্থানটিই সর্বভারতীয় প্রতিবাদের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সিজেপি (CJP) আন্দোলন সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের বিক্ষোভের জেরে জন্তর-মন্তর ফের আলোচনায় উঠে এসেছিল। এহেন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই নির্দেশ কার্যকর হওয়ায় রাজধানীর রাজনৈতিক আন্দোলন এবার নতুন নিয়ম ও নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে পরিচালিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।