‘প্রশাসনিক বৈঠক অসম্ভব….!’ INDIA জোটের আর্জি ফিরিয়ে কী স্পষ্ট বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট?

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সুনির্দিষ্ট প্রতিবাদ মিছিলের ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় ধাক্কা খেল বিরোধী শিবির। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে সোমবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে আর্জি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR), কথিত ‘ভোট চুরি’ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু সূত্রের খবর, বিরোধীদের সেই সাক্ষাতের আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
কেন খারিজ হলো সাক্ষাতের আবেদন? ইন্ডিয়া টুডে-র প্রাপ্ত সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতির কার্যালয় থেকে ইমেলের মাধ্যমে দুই প্রবীণ বিরোধী নেতাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই মুহূর্তে এই ধরনের কোনো বৈঠক করা সম্ভব নয়। প্রধান বিচারপতির যুক্তি, বিরোধীরা যে সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাইছেন, সেই সংক্রান্ত মামলাগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিচারবিভাগীয় বেঞ্চ বা প্রশাসনিক স্তরে এমন সাক্ষাৎ বা বৈঠক করা নীতিগতভাবে সঠিক নয়।
পাশাপাশি প্রধান বিচারপতির তরফে এও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, আদালত তার প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে সরকারের দৈনন্দিন কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে দেশের যেকোনো নাগরিক বা রাজনৈতিক দল তাঁদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য প্রচলিত বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ আইনি পথে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
কেন ফুঁসছে বিরোধী জোট? সাম্প্রতিক সময়ে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি এবং বিরোধীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে তারা। বিশেষ করে, সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার এই এসআইআর সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন অন্য কমিশনাররা। এই তথ্য সামনে আসার পরই বিরোধী শিবির জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর দাবিতে সরব হয়।
‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ ও কড়া নিরাপত্তা: প্রধান বিচারপতির এই বার্তার পরেও দমে যায়নি বিরোধীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার দুপুরে কনট প্লেস ও বারাখাম্বা রোডের সংযোগস্থল থেকে ‘চলো দিল্লি: মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ নামের সুপ্রিম কোর্টমুখী প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয় কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোট। গত শনিবারে দিল্লির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে হামলার অভিযোগ তুলে রাহুল গান্ধী আগেই সুর চড়িয়েছিলেন। সামগ্রিক এই রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে মধ্য দিল্লি জুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।