রাস্তায় নেমে কাজ করায় এত জ্বালা! অগ্নিমিত্রা-পাপিয়াদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

কুঁদঘাটের একটি জলাশয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী এবং নেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, যাঁরা সারাদিন মাঠে-ময়দানে কাজ করেন, তাঁদের নিশানা করেই কিছু লোক সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও ট্রোল চালিয়ে যাচ্ছে। অগ্নিমিত্রাকে সেই সমস্ত কুৎসা উপেক্ষা করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জোরালো কণ্ঠে বলেন, ‘‘পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অত্যন্ত সক্রিয়। দফতরে বসে কাজ করার পাশাপাশি তিনি রাস্তায় নেমেও তদারকি করেন, আর সে কারণেই কিছু মানুষের এত জ্বালা হচ্ছে।’’ এ ধরনের অপপ্রচারকারীদের পাত্ত না দিয়ে সম্পূর্ণ শক্তির সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাজ্য সরকার সবসময় তাঁদের পাশে রয়েছে।
পাশাপাশি, যাদবপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট কৌশলে যাদবপুরকে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন শর্বরী। আর তাঁর এই অদম্য অগ্রগতির কারণেই তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর অন্দরে চরম ভীতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর প্রশংসা করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, বাংলার গ্রামীণ জনপদে ‘যাত্রা’ বলতেই মানুষ আজও পাপিয়া অধিকারীকে চেনেন। এলাকার মানুষ তাঁকে বিধায়ক নির্বাচিত করায় সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, বিগত দিনে ক্ষমতার অহঙ্কারে থাকা অনেক হেভিওয়েট মন্ত্রীকেই সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিন জোড়া জলাশয়— যথাক্রমে ‘শিব জলাশয়’ এবং ‘শক্তি জলাশয়’-এর শুভ উদ্বোধনের পাশাপাশি শহরের সার্বিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান নিয়ে একাধিক বড় বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। নিউ টাউনে দীর্ঘ দিন ধরে আটকে থাকা একটি পাঁচতারা হোটেলের কাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নানা জটিলতায় প্রকল্পটি আটকে থাকলেও বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় তা চালু হওয়ায় প্রায় এক হাজার বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে। এছাড়া আসন্ন দুর্গাপুজো এবং মহালয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আবহমান বাংলার সনাতন পঞ্জিকা মেনেই সমস্ত ধর্মীয় আচার ও পুজো সম্পন্ন হবে; কখন কী করতে হবে তা কোনো রাজনৈতিক সরকার ঠিক করে দেবে না। অনুষ্ঠানে কলকাতা পৌরসভার পুজো সংখ্যা ‘পুজোশ্রী’-র উদ্বোধন ছাড়াও বিরোধীদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, আগামী কলকাতা পৌরসংসভা নির্বাচনেও মানুষ বিরোধীদের পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করবে।