পুজোয় সারারাত জলের ফোয়ারা কলকাতায়! রাতের শহরে জল বন্ধের পুরনো নীতি বদলাতে কড়া নির্দেশ পুরমন্ত্রীর

বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শহরবাসীর জন্য এক বিরাট স্বস্তিদায়ক ও যুগান্তকারী ঘোষণা করল কলকাতা পৌরসংস্থা। বিগত বছরগুলিতে পুজোর কদিন রাতে নির্দিষ্ট সময়ে জল সরবরাহ বন্ধ রাখার যে নিয়ম চলে আসছিল, তা এবার সম্পূর্ণ বদলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতার পুজোয় যাতে কোনোভাবেই পানীয় জলের সংকট তৈরি না হয় এবং সারারাত নিরবচ্ছিন্নভাবে জল সরবরাহ করা যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
সম্প্রতি কুঁদঘাটের একটি জনবহুল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, বিগত দিনে পুজোর সময় জল নিয়ে রাজনৈতিক বৈষম্য করা হতো। অন্যান্য বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে যখন সারারাত জল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হতো, তখন ঠিক দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কৃত্রিমভাবে জল বন্ধ করে রাখা হতো। এই পুরনো ও বৈষম্যমূলক নীতি পুরোপুরি খারিজ করে তিনি হুঙ্কার দিয়েছেন যে, এবার থেকে পুজোর দিনগুলিতেও রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত পানীয় জল সরবরাহ চালু রাখতে হবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, পুজোর রাতে ঘুরে ভোরে বাড়ি ফিরে বহু মানুষই জলের সমস্যায় পড়েন, যা আর হতে দেওয়া যাবে না।
শুধু পানীয় জলের ব্যবস্থাই নয়, এর পাশাপাশি পুজোর কদিন শহরের রাস্তাঘাট ও মণ্ডপ চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। পুজো কমিটিগুলিকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা চাইলে কলকাতা ও বিধাননগর পৌরসভার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন সরবরাহ করা হবে। শহরের জঞ্জাল পরিষ্কার রাখতে পৌরসভার কর্মীরা এবার থেকে প্রতিদিন অন্তত তিনবার করে প্রতিটি পুজো মণ্ডপ এবং তার আশপাশের এলাকা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করবেন।
অন্যদিকে, প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম বা দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিদের জন্যেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। যাতে তাঁরা কোনো ধরনের শারীরিক অসুবিধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন, তার জন্য সমস্ত প্রধান মণ্ডপগুলিতে পৌরসভার উদ্যোগে সুদৃশ্য র্যাম্প তৈরি করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতায় নগরোন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকে বিশেষ প্যাভিলিয়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যেখানে প্রবীণ ও বিশেষ সক্ষমদের জন্য সুপেয় জল, জরুরি ওষুধ এবং সাহায্যকারী কর্মী সর্বদা উপস্থিত থাকবেন। উৎসবের এই দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই বহুমুখী পদক্ষেপে শহরের সর্বস্তরের মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।