সই করলেও পদ ছাড়তে নারাজ উপাধ্যক্ষ! মন্ত্রী জানালেন আসল সত্য, ব্যাকফুটে আন্দোলনকারীরা?

ফের চরম বিতর্কের কেন্দ্রে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ। সেমিস্টার পরীক্ষায় বসার জন্য ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির আবশ্যিক নিয়মকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও, ঘটনার মোড় ঘুরে পৌঁছেছে উপাধ্যক্ষের বিতর্কিত পদত্যাগের নাটকে। উপাধ্যক্ষ ড. মহম্মদি তরন্নুমের অভিযোগ, তাঁকে বন্দি বানিয়ে, ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি কোনোভাবেই এই পদ ত্যাগ করছেন না।
কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট জানানো হয়, সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে গেলে শিক্ষার্থীদের অন্তত ৭৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি থাকতেই হবে। এই নোটিশ সামনে আসতেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশ। টানা আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখ পড়েন উপাধ্যক্ষ ড. মহম্মদি তরন্নুম।
উপাধ্যক্ষের দাবি, টানা ঘেরাও কর্মসূচির সময় তাঁকে নিজের ঘরেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। ঘরের আলো-পাখা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে পানীয় জলটুকুও খেতে দেওয়া হয়নি। এই চরম মানসিক চাপের মুখে পড়েই তিনি ইস্তফাপত্রে সই করতে বাধ্য হন। যদিও আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গঙ্গাজল ছিটিয়ে ঘর ‘শুদ্ধি’:
ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা এই নাটকীয় বিক্ষোভের পর যখন উপাধ্যক্ষের ইস্তফার খবর রটে যায়, তখন উল্লাসে মেতে ওঠেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর সমর্থকেরা। ঘটনাটিকে নিজেদের বড় জয় বলে দাবি করে তারা গঙ্গাজল ছিটিয়ে উপাধ্যক্ষের কার্যালয় ‘শুদ্ধি’ করে। তাদের দাবি, গঙ্গাজল ছিটিয়ে তৃণমূল আমলের সমস্ত ছাপ মুছে ফেলা হলো।
শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা:
ঘটনায় নতুন মোড় আসে উপাধ্যক্ষের মন্তব্যে। তিনি স্পষ্ট জানান, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করায় তিনি কলেজে নিজের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করে যাবেন। অন্যদিকে, রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ড. মহম্মদি তরন্নুমের কোনো অফিশিয়াল পদত্যাগপত্র তিনি এখনও পর্যন্ত পাননি। ফলে আইনি ও প্রশাসনিক দিক থেকে তিনি এখনও স্বপদেই বহাল রয়েছেন।
কে এই মহম্মদি তরন্নুম?
সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মহম্মদি তরন্নুম আইনের শিক্ষাজগতে অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত এক ব্যক্তিত্ব। কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইটের প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি এলএল.বি (LL.B), এলএল.এম (LL.M) এবং আইনে পিএইচডি (Ph.D) ডিগ্রিধারী। বর্তমানে প্রশাসনিক চাপের মুখে নিজের অবস্থান ধরে রেখে আইনি পথেই এগোতে চাইছেন তিনি।