সোনার বাজারে বড় ধস! উৎসবের মরশুমের আগে কলকাতায় হু হু করে কমল সোনা ও রুপোর দাম

উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য এল দারুণ এক স্বস্তির খবর। গত কয়েক দিনের বাজারদর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করলে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে, কলকাতার বাজারে ২২ ক্যারেট এবং ২৪ ক্যারেট অর্থাৎ ফাইন গোল্ড—উভয় ক্ষেত্রেই সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শুধু তাই নয়, মূল্যবান এই ধাতুর পাশাপাশি রুপোর বাজারেও বড় ধরনের পতনের ছবি ধরা পড়েছে। ফলে যাঁরা সোনা বা রুপো কেনার কথা অনেক দিন ধরে ভাবছিলেন, তাঁদের নজর এখন বাজারের এই ধারাবাহিক ওঠানামার দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।

স্বর্ণ শিল্পের স্বনামধন্য সংস্থা ‘স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটি’ বা এসএসবিসি (SSBC)-র পক্ষ থেকে প্রকাশিত ইন্ডিকেটিভ হলমার্ক গোল্ড জুয়েলারি রেট অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ২২ ক্যারেট সোনার দর প্রতি গ্রামে প্রায় ১৩৫ টাকা কমেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ২২ ক্যারেট সোনার সেলিং রেট প্রতি গ্রাম ছিল ১৪,৩৩০ টাকা। অথচ এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর এই একই দর ছিল প্রতি গ্রাম ১৪,৪৬৫ টাকা। এর ফলে স্পষ্ট যে, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে সোনা সস্তা হয়েছে ১৩৫ টাকা। এমনকি গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেট সোনার দর ছিল প্রতি গ্রাম ১৪,৪৩০ টাকা, যার অর্থ হল মাত্র একদিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে ১০০ টাকা পতন রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্যদিকে, খাঁটি সোনা বা ২৪ ক্যারেট (Fine Gold 995)-এর দামও নিম্নমুখী। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফাইন গোল্ডের দাম কমে প্রতি গ্রাম দাঁড়িয়েছে ১৫,০৮৫ টাকায়। অথচ গত ১২ সেপ্টেম্বর এই দর ছিল প্রতি গ্রাম ১৫,২২৬ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে ১৪১ টাকা কমেছে। যদি ১০ গ্রাম ফাইন গোল্ডের হিসাব কষা হয়, তবে ১২ সেপ্টেম্বরের তুলনায় ১৫ সেপ্টেম্বর দাম কমেছে প্রায় ১,৪১০ টাকা। একইভাবে, ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনায় দাম কমেছে প্রায় ১,৩৫০ টাকা। শুধু তাই নয়, পিছিয়ে নেই ১৮ ক্যারেট সোনাও। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮ ক্যারেট সোনার দর প্রতি গ্রামে কমে হয়েছে ১১,৭৬৫ টাকা, যা ১২ সেপ্টেম্বর ছিল ১১,৮৭৫ টাকা। অর্থাৎ তিন দিনে প্রতি গ্রামে ১১০ টাকা এবং ১০ গ্রামের হিসেবে মোট ১,১০০ টাকা পতন ঘটেছে।

সোনার পাশাপাশি রুপোর বাজারেও স্বস্তির হাওয়া বইছে। এসএসবিসি-র তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ৯৯৯ ফাইন সিলভার বা সিলভার বারের দাম প্রতি কেজি ২,৩১,৩১০ টাকায় নেমে এসেছে। অথচ গত ১২ সেপ্টেম্বর এই দর ছিল প্রতি কেজি ২,৩৩,৭২৮ টাকা। অর্থাৎ গত তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি রুপোর দামে সরাসরি ২,৪১৮ টাকার পতন দেখা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সোনার বাজার, মার্কিন ডলারের মূল্যের ওঠানামা, বিভিন্ন দেশের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার সম্পর্কিত নানা প্রত্যাশা এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদা—এই সমস্ত কিছুর মিলিত প্রভাবই দেশীয় বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের ওপর পড়ে। সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক বাজারের নানান অনিশ্চয়তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে আমাদের দেশের বুলিয়ন মার্কেটে।

তবে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। এসএসবিসি-র তালিকাভুক্ত এই সমস্ত বাজারদর সম্পূর্ণভাবেই ৩ শতাংশ জিএসটি (GST) বাদ দিয়ে ধার্য করা হয়েছে। তাই দোকান থেকে কোনো ধরনের সোনার গয়না কেনার সময় শুধুমাত্র এই বেস রেট বা প্রতি গ্রামের নির্দিষ্ট সোনার দাম দিলেই চলবে না। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ জিএসটি এবং প্রতিটি গয়নার ক্ষেত্রে মেকিং চার্জ বা তৈরির খরচ যোগ হবে। এই মেকিং চার্জ আবার গয়নার জটিল ডিজাইন, নির্দিষ্ট দোকান এবং অলঙ্কারের ধরনের ওপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। তাই ২২ ক্যারেটের ১০ গ্রাম সোনার বেস রেট ১,৪৩,৩০০ টাকা হলেও, ক্যাশ কাউন্টারে চূড়ান্ত বিল এই নির্ধারিত অঙ্কের তুলনায় কিছুটা বেশি হবে।