নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা, শুভেন্দুর উপস্থিতিতেই হাইভোল্টেজ মনোনয়ন!

আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। বহু জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক নন্দীগ্রামে বিজেপির টিকিট পেয়েছেন তাঁর প্রয়াত আপ্ত সহায়কের মা হাসিরানি রথ। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে বিজেপি বাজি ধরেছে দলের রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকারের ওপর।

রেজিনগরে কঠিন জয়ের চ্যালেঞ্জ শাখারভের কাঁধে

রাজ্য বিজেপির পরিচিত মুখ শাখারভ সরকার দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কাজ সামলাচ্ছেন। আগে তিনি মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। এবার তাঁকে রেজিনগরের মতো কঠিন লড়াইয়ের মাঠে নামাল গেরুয়া শিবির।

নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর শাখারভ সরকার জানান, রেজিনগরের মানুষ এবার প্রকৃত উন্নয়ন চান। দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা ব্রিজের কাজ শেষ করা, নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং এলাকার সার্বিক পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই ভোটাররা ইভিএমে রায় দেবেন। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাজের ওপর ভরসা রেখে স্থানীয় মানুষ বিজেপিকে জয়ী করবেন বলেই তাঁর বিশ্বাস।

নন্দীগ্রামে আবেগের বাজি: কে এই হাসিরানি রথ?

নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হওয়া হাসিরানি রথ হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়াত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। গত কয়েকদিন ধরেই তাঁর নাম নিয়ে চর্চা চলছিল। দলের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর হাসিরানিদেবী জানান, শুভেন্দু অধিকারীই তাঁদের পরিবারের অভিভাবক। তাই শুভেন্দুবাবুর দেওয়া যেকোনো দায়িত্ব তিনি মাথা পেতে নিতে তৈরি।

জানা গেছে, আজ মঙ্গলবারই শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মিছিল করে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন হাসিরানিদেবী। উল্লেখ্য, এই নন্দীগ্রাম আসনে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে মিলন প্রধানকে এবং সিপিআইয়ের টিকিটে লড়ছেন শান্তিগোপাল গিরি। বিজেপির হয়ে এই কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচার ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী।

কেন হঠাৎ এই দুই আসনে উপনির্বাচন?

সাম্প্রতিক নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে নিয়মানুযায়ী একটি আসন ছেড়ে দিতে হওয়ায় তিনি নন্দীগ্রাম থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, রেজিনগর ও নওদা আসনে আম জনতা পার্টির টিকিটে জয়ী হুমায়ুন কবীর রেজিনগর আসনটি খালি করেন। ফাঁকা হওয়া এই দুই আসনেই আগামী অক্টোবরে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে।