টেট দুর্নীতিতে অভিযুক্তই ঘাসফুলের প্রার্থী! নন্দীগ্রামে ভোটের ময়দানে নামতেই শোরগোল!

বায়ান্নর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ফের উত্তপ্ত। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে শাসক দলের প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে আসা আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে ময়দানে নামিয়েছেন সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণা হতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০১৪ সালের বিতর্কিত টেট দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় নাম রয়েছে এই প্রার্থীর। আর এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই শাসক শিবিরকে তীব্র আক্রমণ শাণিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বয়ালের বাসিন্দা সঞ্চিতা প্রধান দে ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও চাকরি পেয়েছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ৩০ জন টেট অনুত্তীর্ণ চাকরিপ্রাপকদের যে তালিকা সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হয়েছিল, তার ২৩ নম্বরে জ্বলজ্বল করছে তাঁর নাম। ২০২২ সালের ১৩ জুন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর চাকরি বাতিল করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। যদিও একই বছরের ১৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রাথমিক স্কুলের ২৬৯ জন চাকরি বাতিলের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়, যা বর্তমানেও বহাল রয়েছে। কিন্তু আদালতের বিচারাধীন এই ২৬৯ জনের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ এখনও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর ঝুলে রয়েছে।
এই নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গকে সামনে এনে বিজেপি নেতৃত্ব অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুর চড়িয়েছে। গেরুয়া শিবিরের সাফ কথা, তৃণমূলের মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রার্থীরা—সবাই এই দুর্নীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। দলের নেতাদের স্পষ্ট কটাক্ষ, “তৃণমূলের সবাই দাগী!” অন্যদিকে, বিরোধীদের এই আক্রমণকে পুরোপুরি গায়ে মাখতে নারাজ শাসক দল। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এই পুরো বিষয়টিকে স্রেফ ‘অহেতুক বিতর্ক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে শুধু বিজেপি নয়, এই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরেও যে কিছুটা কানাঘুষো শুরু হয়নি, তা নয়। এমনকি প্রবীণ তৃণমূল নেতা মদন মিত্রও এই প্রার্থী পদ নিয়ে নিজের মতো করে খোঁচা দিতে ছাড়েননি।
উল্লেখ্য, নরসিংহপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন সঞ্চিতা প্রধান দে। ২০১৪ সালের টেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২০১৫ সালে পরীক্ষা হয় এবং ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী নিযুক্ত হন। কিন্তু অভিযোগ ওঠে যে মানিক ভট্টাচার্যের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে মূল তালিকার বাইরেও পিছনের দরজা দিয়ে বেআইনিভাবে ২৬৯ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। আর সেই বিতর্কিত তালিকা থেকেই নন্দীগ্রামের বর্তমান কালীঘাট পন্থী তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক পারদ এখন চড়চড় করে চড়ছে। ভোটের আগে এই নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যু কীভাবে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।