“গরীব ঘরের ছেলে থেকে কোটিপতি অলৌকিক বাবা!”-জেনেনিন কে এই বাগেশ্বর শাস্ত্রী?

তৃণমূল জমানার বাধা পেরিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে পা রাখলেন বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তবে বাংলায় পা রেখেই দুর্গাপুজোয় আমিষ আহার নিয়ে ফতোয়া জারি করে চরম বিতর্কের জন্ম দিলেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, যাঁরা দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খান, তাঁরা পাষণ্ড। একইসঙ্গে বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাজ্যে এখন বাবরওয়ালি নয়, রঘুবীরওয়ালারা ক্ষমতায় আছেন।
মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলার গড়া গ্রামের এক অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম হয়েছিল ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ গর্গের। ছোটবেলায় চরম আর্থিক কষ্টের মধ্যে কাটলেও ঠাকুরদার হাত ধরেই রামচরিতমানস পাঠে হাতেখড়ি হয় তাঁর। এরপর গড়া গ্রামের নির্মোহী আখড়ার পাশেই শুরু হয় তাঁর ‘দৈব দরবার’। ধীরে ধীরে সাধারণ ধীরেন্দ্র থেকে তিনি হয়ে ওঠেন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ‘বাগেশ্বর বাবা’। তাঁর দাবি, ভক্তরা কিছু বলার আগেই তিনি কাগজের চিরকুটে তাঁদের মনের কথা লিখে দিতে পারেন। বর্তমানে তাঁর দেশজোড়া জনপ্রিয়তা এবং ৩০ কোটির কাছাকাছি সম্পত্তির মালিক এই ধর্মগুরু প্রতি অনুষ্ঠানে আড়াই থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নেন বলে জানা যায়।
তবে অলৌকিক ক্ষমতার পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মন্তব্য বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। অতীতে এনসিইআরটি-র পাঠ্যপুস্তকে ‘লভ জিহাদ’ সংক্রান্ত মন্তব্য, সাঁইবাবা ও ছত্রপতি শিবাজীকে নিয়ে বিতর্কিত বয়ান কিংবা তাঁর ভাইয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে। যুক্তিবাদী শ্যাম মানব তাঁর অলৌকিক ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জও করেছিলেন।
এদিন বাংলায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর আতিথেয়তায় আপ্লুত হয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ এখন সুরক্ষিত হাতে রয়েছে এবং এখানে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে। তাঁর এই নানা বিতর্কিত মন্তব্য এবং পুজোর কড়চা নিয়ে করা নিদানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।