“৩০০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা পাওয়ার সুযোগ”-বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এল রাজ্য প্রশাসন। সোমবার নবান্ন সভাঘর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতার বর্ধিত অর্থ প্রদানের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন এই স্কিমগুলির আওতায় উপভোক্তারা পেতেন ১০০০ টাকা করে, যা বাড়িয়ে এখন থেকে ১৫০০ টাকা করা হয়েছে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে আজকের মধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৮২ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন প্রাপকের অ্যাকাউন্টে এই টাকা পৌঁছতে শুরু করেছে।
এদিন রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বের সরকারের জমানায় রাজ্য কার্যত অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল এবং বর্তমান বেহাল দশা কাটিয়ে উঠতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে। তবে এরই মধ্যে রাজ্যের কোষাগারের আয় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং যোগ্য প্রার্থীরাই যাতে সঠিক সাহায্য পান, তার জন্য ভুয়ো শংসাপত্র ও উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি, এদিন বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করে আগের সরকারের আমলের সমস্ত ‘ওয়েটিং লিস্ট’ বা অপেক্ষমাণ তালিকা বাতিল করার ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবর্তে বর্তমান সরকারের ‘জনকল্যাণ শিবির’ এবং ‘আপনার সরকার, আপনার পাশে’ কর্মসূচিতে যাঁরা নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের তথ্য যাচাই করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন তালিকা তৈরি করা হবে। এছাড়া, স্বামীহারা বা বিধবা নারীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা করে জানানো হয়েছে, তাঁরা চাইলে এই স্কিম পরিবর্তন করে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র আওতায় মাসিক ৩০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। এই জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে সরকারের মোট ১৪,৭১১ কোটি টাকা খরচ হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।