ভাইকে বাঁচাতে এবার ডন হয়ে উঠছেন দিদি! রুপোলি পর্দার ভাই-বোনের গল্পে প্রলয় আনছে ‘টক্সিক’!

বলিউড ও ভারতীয় চলচ্চিত্রে ভাই-বোনের সম্পর্কের সমীকরণ গত কয়েক দশকে সম্পূর্ণ বদলে গেছে। অতীতে যেখানে বড় পর্দায় বোনদের কেবল ছোট, অবলা এবং ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করতে দেখা যেত, বর্তমানের আধুনিক সিনেমা সেই গতানুগতিক ধারণাকে আমূল বদলে দিয়েছে। নব্বইয়ের দশক বা তার আগের ছবিতে মীনা কুমারী বা ধর্মেন্দ্রর ছবির মতো দৃশ্যগুলোতে ভাইদের সবসময় রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখানো হলেও, ২০০০ সালের পর থেকে এই ছবিটিতে এক বিরাট পরিবর্তন এসেছে। সমসাময়িক চলচ্চিত্রগুলিতে এখন বোনেদের আর অসহায় অবস্থানে দেখা যায় না; বরং তাঁরা ভাইদের শক্তি হয়ে ওঠার পাশাপাশি শত্রুদের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সরাসরি লড়াইয়ে নেমে পড়ছেন।

এই বদলের সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও উজ্জ্বল উদাহরণ হতে চলেছে পরিচালক গীতু মোহনদাসের আগামী হাই-ভোল্টেজ ছবি ‘টক্সিক’। ছবিটির মূল আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার যশ এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা, যারা এই ছবিতে ভাই-বোনের এক সম্পূর্ণ নতুন ও অপ্রচলিত চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই অ্যাকশন-প্যাকড ছবিতে কোনো রাখিবন্ধনের প্রচলিত দৃশ্য বা আবেগঘন গান নেই। বরং রক্তের হোলি ও ধুন্ধুমার লড়াইয়ের মাঝে ছবির গল্পে ভাই ও বোনের সম্পর্কের এক অভিনব সংজ্ঞা তৈরি করা হয়েছে। ছবিতে নয়নতারার চরিত্রের নাম ‘গঙ্গা’ এবং যশ অভিনয় করেছেন ছোট ভাই ‘রায়া’-র ভূমিকায়। শৈশবে চরম দারিদ্র্য ও পারিবারিক অশান্তির মধ্যে বড় হওয়া গঙ্গা তার ছোট ভাইকে রক্ষা করার জন্য এবং তাকে গোয়ার আন্ডারওয়ার্ল্ডের সিংহাসনে বসানোর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়। ভাইয়ের যেকোনো বিপদে সে হয়ে ওঠে অটল ঢাল।

শুধু ‘টক্সিক’ই নয়, বরং বিগত বছরগুলিতে মুক্তিপ্রাপ্ত বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবিও ভাই-বোনের সম্পর্কের এই গতানুগতিক রূপ বদল করে দিয়েছে। ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মনসুর খানের ‘জোশ’ ছবিতে শাহরুখ খান এবং ঐশ্বর্য রাই বচ্চনকে সমান শক্তির যমজ ভাই-বোন হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যার প্রেক্ষাপটও ছিল গোয়া। এরপর ‘দিল ধাড়াকনে দো’, ‘মাই ব্রাদার নিখিল’, ‘সরবজিৎ’, এবং আলিয়া ভাটের ‘জিগরা’ বা রণবীর কাপুরের ‘অ্যানিমেল’-এর মতো চলচ্চিত্রগুলিতেও বড় বোন বা ভাই-বোনের পারস্পরিক লড়াই ও সুরক্ষার গল্প অত্যন্ত জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওমুং কুমার পরিচালিত ‘সরবজিৎ’ (২০১৬) ছবিতে দলবীর কৌর তাঁর ভাইয়ের মুক্তির জন্য যেভাবে লড়েছিলেন, তা বাস্তব জীবনের এক চরম সংগ্রামের নিদর্শন। আর বর্তমানের ‘টক্সিক’ বা ‘জিগরা’র মতো ছবিগুলি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে রূপোলি পর্দায় বোনের ভূমিকা এখন আর কেবল প্রার্থনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সে নিজেই হয়ে উঠেছে ভাইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ও রক্ষাকর্তা।