দুই মাস ধরে ৭০টি ভেড়া শিকার! অবশেষে হিমাচলে খাঁচাবন্দি সেই ত্রাস সৃষ্টিকারী হিংস্র চিতাবাঘ!

হিমাচল প্রদেশের মান্ডি শহরের সংলগ্ন রেহধারের নাসলোহ এলাকায় গত দুই মাস ধরে আতঙ্কের এক অন্য অধ্যায় তৈরি করেছিল একটি রক্তপিপাসু চিতাবাঘ। অবশেষ বন বিভাগের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় খাঁচাবন্দি হয়েছে সেই ত্রাস সৃষ্টিকারী হিংস্র চিতাটি। চিতাবাঘটি ধরা পড়ার পরই নাসলোহ এবং তার আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দা অবশেষে দীর্ঘ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। স্থানীয় গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, গত জুলাই মাস থেকে এই চিতাটি লাগাতার তাদের ভেড়া ও গবাদি পশু শিকার করে চলেছে। যার ফলে গোটা এলাকায় এক পৈশাচিক ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল এবং সন্ধ্যা নামলেই গ্রামবাসীদের পক্ষে ঘর থেকে এক পাও বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মান্ডি শহরের সংলগ্ন নাসলোহ, রাও, চৌকি ভালেদ, ধনোগ এবং টুং এলাকায় গত দুই মাস ধরে নিয়মিত এই চিতাবাঘটির আনাগোনা দেখা যাচ্ছিল। বিশেষ করে গবাদি পশুর মালিক ও কৃষকরা তাদের গরু এবং ভেড়ার নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন। গ্রামবাসীদের দাবি অনুযায়ী, কেবল জুলাই মাসেই এই চিতাবাঘের একাধিক নৃশংস আক্রমণে প্রায় ৭০টি ভেড়ার মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘনঘন আক্রমণের ফলে এলাকার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চাষী ও পশুপালকরা বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। রাতের অন্ধকারে ঘর থেকে একা বের হওয়ার সাহস কারোরই ছিল না, এমনকি পোষা প্রাণীগুলির সুরক্ষার জন্যও গ্রামজুড়ে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করতে হয়েছিল। বারবার এই বন্য জন্তুর আক্রমণের মুখে পড়ে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসী বন বিভাগের কাছে অবিলম্বে সেটিকে ধরার কড়া দাবি জানান।
জনগণের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে বন বিভাগ তৎপর হয়ে ওঠে এবং চিতাবাঘটিকে ধরার জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় একটি বিশাল লোহার খাঁচা স্থাপন করে। বন বিভাগের বিশেষ দল একটানা দিনরাত এক করে ওই চিতাটির গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে শুরু করে। অবশেষে বন বিভাগের এই ফাঁদেই পা দেয় হিংস্র চিতাটি এবং খাঁচাবন্দি হয়। এদিকে খাঁচায় বন্দী হওয়ার পর চিতাবাঘটির একটি ভয়ঙ্কর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, খাঁচা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য হিংস্র চিতাটি মরিয়া হয়ে ছটফট করছে এবং হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। খাঁচার ঠিক সামনে এই ভয়ানক দৃশ্য দেখে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে যেমন চরম কৌতূহল ছড়িয়ে পড়েছিল, তেমনই এক অজানা আতঙ্কের পরিবেশও সৃষ্টি হয়েছিল।
চিতাবাঘটি খাঁচাবন্দি হওয়ার খবর চাউর হতেই স্থানীয় গ্রামবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। তারা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে গত দুমাস ধরে তারা চরম ত্রাসের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। একের পর এক ভেড়া শিকারের ঘটনা এবং মানুষের ওপর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। তবে চিতাটি ধরা পড়ায় তারা সাময়িকভাবে হলেও দারুণ স্বস্তি পেয়েছেন। বন বিভাগের এই সফল পদক্ষেপের জন্য গ্রামবাসীরা তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তবে এর পাশাপাশি তারা একটি বিশেষ দাবিও পেশ করেছেন। গ্রামবাসীদের একাংশের মতে, এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে তারা এখনও পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে বন বিভাগের কাছে তাদের জোরদার দাবি—ওই এলাকায় আরও কিছুদিন খাঁচাটি সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা হোক এবং বন্য জন্তুর গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখা হোক। আপাতত বন বিভাগের এই সফল পদক্ষেপে নাসলোহ ও তার পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলি চিতাবাঘের ত্রাস থেকে মুক্তি পেলেও, গ্রামবাসীরা আশা করছেন যে তারা এখন থেকে সম্পূর্ণ নির্ভয়ে নিজেদের দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারবেন এবং আগের মতো রাতের অন্ধকারে আর ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হবে না।