যৌন হেনস্তার প্রতিবাদে কি এই পরিণতি? ১০ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হল নাবালিকাকে, গ্রেফতার ২

গুজরাটের আমেদাবাদে এক নাবালিকাকে দশতলা থেকে খোলা লিফটের শ্যাফে ছুড়ে ফেলার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত তিন শ্রমিকের অশালীন আচরণ এবং যৌন হেনস্থার চেষ্টার প্রতিবাদ করায় ওই কিশোরীকে এই চরম পরিণতি ভোগ করতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে ওই নাবালিকাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ আগস্ট আমেদাবাদের মুথিয়া গ্রামের কাছে অবস্থিত শ্যাম উপবন নামক একটি নির্মাণস্থলে। ওই নির্মাণস্থলেই নাবালিকার বাবা-মা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার দিন প্রতিদিনের মতো বাবা ও মাকে দুপুরের খাবার পৌঁছে দিতে নির্মাণস্থলে গিয়েছিল ওই কিশোরী। খাবার দিয়ে দশতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসার সময় তিন শ্রমিক—রাহুল দোদিয়ার, সুরেশচন্দ্র চারপোটা এবং দীনেশ নিনামা—তার পথ আটকে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ।
তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ওই তিন যুবক কিশোরীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করার চেষ্টা করে এবং যৌন হেনস্থা করতে উদ্যত হয়। কিন্তু কিশোরী সাহসিকতার সঙ্গে তাদের সেই কুপ্রস্তাব ও অশালীন আচরণের জোরালো প্রতিবাদ করে। অভিযোগ রয়েছে যে, পরিস্থিতির আকস্মিকতায় ও নিজেদের কুকীর্তি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর তারা জোরপূর্বক ওই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে দশতলার সিঁড়ির পাশেই থাকা একটি খোলা লিফটের শ্যাফটের মধ্যে ছুড়ে ফেলে দেয়। কয়েক তলা নিচে পড়ে যাওয়ার কারণে কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং একাধিক স্থানে হাড় ভেঙে যায়।
চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং দ্রুত জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। নাবালিকার বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারোদা থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনকে দ্রুত পাকড়াও করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই জঘন্য কান্ডের মূল অভিযুক্ত এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। পুলিশ তার সন্ধান পেতে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
এই নৃশংস ঘটনার পর নির্মাণস্থলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শ্রমিকদের ওপর নজরদারি এবং মহিলা ও শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা। পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকার শারীরিক অবস্থার দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং পলাতক মূল অভিযুক্তকে শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে।