মাঝসমুদ্রে চরম আতঙ্ক! জলদস্যুর কবলে পড়ে বন্দি ২২ ভারতীয়, উদ্ধার করতে তৎপর কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক জলসীমায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জলদস্যুদের উপদ্রব। ইয়েমেন ও সোমালিয়ার উপকূলবর্তী সংবেদনশীল সামুদ্রিক অঞ্চলে জলদস্যুদের জোড়া হানায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দু’টি ভিন্ন মালবাহী জাহাজ জলদস্যুরা ছিনতাই করেছে বলে খবর মিলেছে, যার মধ্যে একটি জাহাজে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র এবং অপরটিতে তেল বোঝাই করা ছিল। সবথেকে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ওই দুটি জাহাজে মোট ২২ জন ভারতীয় নাবিক ও ক্রু সদস্য কর্মরত ছিলেন। আকস্মিক এই হামলার পর থেকে তাঁদের বর্তমান অবস্থান এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে সোমালিয়ার পন্টল্যান্ড উপকূলের কাছে। ক্যামেরুনের পতাকাবাহী একটি জাহাজ তুরস্কের টেকিরদাগ বন্দর থেকে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তানজানিয়ার দার এস সালামের দিকে রওনা দিয়েছিল। সোমালিয়ার পন্টল্যান্ডের ইল জেলার মারাইয়া উপকূল থেকে আনুমানিক সাড়ে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে আটজন সশস্ত্র জলদস্যু স্পিডবোটে করে এসে জাহাজটিতে হানা দেয়। Polar Movement Shipping সংস্থার মালিকানাধীন এই জাহাজে সব মিলিয়ে ১০ জন কর্মী ছিলেন। যার মধ্যে ছ’জনই ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া একজন তুর্কি, একজন জর্জিয়ান এবং দু’জন সার্বিয়ান নিরাপত্তারক্ষীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মোগাদিশুর একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্দেশ্যেই এই অস্ত্রগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। হামলার পর জোরপূর্বক জাহাজটিকে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সমস্ত নাবিকদের বন্দি করে রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এডেন উপসাগরে। ইয়েমেনের উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরিত্রিয়ার পতাকাবাহী M.T. Sibu 1 নামক একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায় ছয় জন জলদস্যু। ওই জাহাজে মোট ২০ জন নাবিক ও ক্রু সদস্য ছিলেন, যার মধ্যে ১৬ জনই ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া সিরিয়া, সুদান এবং ইরাকের নাগরিকরাও ওই জাহাজে কাজ করছিলেন। তবে ডিরেক্টরেট অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী আশার আলো একটাই, সেটি হলো এই দ্বিতীয় জাহাজের সমস্ত কর্মী আপাতত নিরাপদে রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। e-Navik অনলাইন মেরিটাইম ক্যাজুয়ালটি রিপোর্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। SKS Krishiv Marine Services-এর প্রতিনিধি সুমিত কান্ত সিং জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থার মাধ্যমেই ওই জাহাজের চার জন কর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই সমস্ত নাবিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচয়পত্র ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও অপহৃত ও বন্দি নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ শুরু হয়েছে বলে খবর। আন্তর্জাতিক জলপথে এই ধরনের একের পর এক জলদস্যু হামলা বিশ্ব বাণিজ্যের নিরাপত্তাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।