গলাব্যথা-সর্দি-কাশিতে আরাম দেবে ৩ ঘরোয়া পানীয়, জেনেনিন কী কী?

ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি, ঠান্ডা লাগা এবং গলার অম্বল বা ব্যথার সমস্যা যেন ঘরে ঘরে লেগেই থাকে। সামান্য গলা ব্যথা বা খুসখুসে কাশি শুরু হলেই অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে ওষুধের দোকানে ছোটেন। কিন্তু জানেন কি, রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান দিয়েই এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব? ওষুধের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না রেখে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি এই তিনটি পানীয় চুমুকে চুমুকে গলা ব্যথা ও সর্দিতে দারুণ আরাম দিতে পারে।
১. মধু, আদা ও লেবুর উষ্ণ চা
সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথার সমস্যায় মধু, আদা ও লেবুর মিশ্রণ সবচেয়ে পুরোনো এবং পরীক্ষিত ওষুধ। আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা গলার ফোলাভাব ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, লেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মধু গলার খসখসে ভাব দূর করে আরাম দেয়। এক কাপ গরম জলে থেঁতো করা আদা ফুটিয়ে তাতে পাতিলেবু ও এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে খেলেই নিমেষে আরাম মিলবে।
২. হলুদ ও গোলমরিচের দুধ
সর্দি-কাশির অব্যর্থ ওষুধ হিসেবে কাঁচা হলুদ ও গোলমরিচের জুড়ি মেলা ভার। হলুদে থাকা কারকিউমিন নামক উপাদান শরীরকে ভিতর থেকে শক্তি জোগায় এবং সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। আর গোলমরিচ গলার কফ পরিষ্কার করতে দারুণ কার্যকর। এক গ্লাস ইষদুষ্ণ দুধে সামান্য গুঁড়ো হলুদ ও এক চিমটে গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে রাতে শোওয়ার আগে পান করলে গলা ব্যথা ও সর্দি-কাশিতে ম্যাজিকের মতো কাজ হয়।
৩. তুলসি ও লবঙ্গের ক্বাথ
তুলসি পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ভাইরাল গুণ, যা ঠান্ডা লাগার বিরুদ্ধে লড়াই করে। এর সঙ্গে লবঙ্গ মিশিয়ে ক্বাথ তৈরি করলে তা সর্দি-কাশি সারাতে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে কাজ করে। কড়া রোদে বা ঠান্ডায় ঘুরে গলা বসে গেলে কয়েকটা তুলসি পাতা ও দুটি লবঙ্গ জলে ভালো করে ফুটিয়ে সেই জল ছেঁকে পান করলে তৎক্ষণাৎ স্বস্তি মেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটখাটো সর্দি-কাশির জন্য বারবার অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার চেয়ে এই ধরনের ঘরোয়া টোটকা শরীরের পক্ষে অনেক বেশি উপকারী। তবে সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।