টাওয়ার বসানোর লোভ দেখিয়ে প্রবীণের সর্বস্বান্ত! ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাইবার জালে ৪ প্রতারক

মোবাইল টাওয়ার বসিয়ে দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের মাসিক ভাড়ার লোভ দেখিয়ে ৭১ বছর বয়সি এক প্রবীণ নাগরিকের কাছ থেকে ৩০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে বসিরহাট সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর দ্রুত তদন্তে নেমে পুলিশ এই সাফল্য অর্জন করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে প্রতারণার কিছু অর্থও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃতরা একটি সুসংগঠিত সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। আত্মসাৎ করা অর্থের গতিপথ এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবীণ নাগরিককে নিজেদের জালে টানতে মোবাইল টাওয়ার বসানোর বিনিময়ে আকর্ষণীয় ভাড়ার প্রলোভন দেখানো হয়। বিভিন্ন অজুহাতে এবং নানা কৌশলে একাধিক দফায় তাঁর কাছ থেকে মোট ৩০,৭২,০০০ টাকা আদায় করা হয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রবীণ ব্যক্তি অবিলম্বে জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই আধুনিক প্রযুক্তি ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে বসিরহাট সাইবার ক্রাইম থানা। তদন্তে একাধিক সন্দেহজনক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অভিযুক্তদের যোগসূত্র প্রকাশ্যে আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বাগুইআটি ও সল্টলেক এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে রানা সর্দার, পল্লবী রায়, বিশ্বজিৎ রাজবংশী এবং সুরজিৎ ঘোষ—এই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
বসিরহাট পুলিশ জেলার এই সাঁড়াশি অভিযান আবারও প্রমাণ করল যে সাইবার প্রতারণার জাল যতই বিস্তৃত হোক না কেন, সঠিক সময়ে অভিযোগ পেলে পুলিশ তার মূলে পৌঁছাতে সম্পূর্ণ তৎপর। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কোনো বড় চক্র বা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রতারিত প্রবীণ নাগরিক যাতে তাঁর খোয়া যাওয়া কষ্টার্জিত অর্থ আইনানুগভাবে ফিরে পান, সেই বিষয়েও সর্বাত্মক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।