জতুগৃহ নিউ মার্কেট! গভীর রাতে কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শিশু সহ মর্মান্তিক মৃত্যু ৯ জনের

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট এলাকার একটি বহুতল হোটেলে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গভীর রাতে ঝরে গেল ৯টি তাজা প্রাণ। নিহতদের মধ্যে দুই জন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, রাত পৌনে দুটো নাগাদ হোটেলের একটি তলা থেকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সংশ্লিষ্ট ওই বহুতলের প্রতিটি তলাতেই একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে ‘শিখা ইন’ নামের একটি হোটেলেই প্রধানত আগুন ছড়ায়। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী আগুনের উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের এই ভয়াবহ ঘটনায় মোট ৯ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, হোটেলের পিছনের জরুরি এক্সিট গেট বা নির্গমন পথটি বন্ধ থাকায় অনেকেই বিপদের আঁচ পেয়েও সময়মতো বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেননি।
কলকাতায় এই ধরনের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থেকেছে মহানগরী। গত বছরের ২৯ এপ্রিল বড়বাজারের ঋতুরাজ হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাতেও পিছনের সিঁড়ি বন্ধ থাকায় প্রাণ বাঁচাতে অনেকে কার্নিশ বা পাইপ বেয়ে নামার চেষ্টা করেছিলেন এবং মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন। ২০১০ সালের ২৩ মার্চ পার্ক স্ট্রিটের স্টিফেন কোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ৪৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল, যেখানে ছাদের দরজা বন্ধ থাকায় অনেকে আটকে পড়েছিলেন। একইভাবে ২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯২ জন রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শিয়ালদার সূর্য সেন মার্কেটে ২০ জন এবং ২০২১ সালের ৮ মার্চ স্ট্র্যান্ড রোডের নিউ কয়লাঘাট বিল্ডিংয়ে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। একের পর এক এমন বিপর্যয় নগরবাসীর মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে।