ট্র্যাডিশনাল অথচ মডার্ন! পুজো বা বিয়ের আসরে কীভাবে স্টাইল করবেন অদিতির মতো? জানুন ফ্যাশন টিপস!

উৎসবের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই যে কেবল প্রচলিত লেহেঙ্গা কিংবা আনারকলি পরতে হবে, এমন কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। এই উৎসবের মরশুমে যদি আপনি এমন কিছু নতুন ও আকর্ষণীয় পোশাক বেছে নিতে চান, যা একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ও কিছুটা অভিনব, তবে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারির অনবদ্য ‘ঘারারা’ ও ‘চোগা’ লুক থেকে অনায়াসেই দারুণ অনুপ্রেরণা নিতে পারেন। অদিতির ফ্যাশন স্টেটমেন্ট সবসময়ই ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কাড়ে, কারণ তিনি খুব সুন্দরভাবে পুরোনো দিনের অভিজাত সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়ে থাকেন।
অদিতির উৎসবের দুটি চমৎকার সাজের মধ্যে প্রথমটিতে রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন সবুজ রঙের ‘ঘারারা’, এবং দ্বিতীয়টিতে রয়েছে লাল রঙের টিস্যু কাপড়ের ‘চোগা’ ও ‘মাশরু’ সালোয়ারের এক জমকালো ও আভিজাত্যপূর্ণ সংমিশ্রণ। এই দুটি সাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের হলেও এদের মধ্যে একটি দারুণ সাধারণ মিল রয়েছে—তা হলো এক নীরব রাজকীয় আভিজাত্য, যা দেখতে কখনওই অতিরিক্ত ভারী বা বাড়াবাড়ি বলে মনে হয় না। ঠিক এই বিশেষ কারণেই এই ধরনের পোশাকগুলি উৎসবের ফ্যাশন তালিকায় অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও ট্রেন্ডি পছন্দ হয়ে উঠেছে। আপনি যদি এবার প্রথাগত পোশাকের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কিছু ট্রাই করার কথা ভেবে থাকেন, তবে অদিতির এই স্টাইলিং আপনাকে দারুণ সাহায্য করবে।
প্রথমেই যে চোখ জুড়ানো পোশাকটি ফ্যাশনে বিশেষ অনুপ্রেরণা জোগায়, তা হলো একটি সেজ-গ্রিন (sage-green) রঙের ঘারারা। নিজের এই প্রথম সাজের জন্য অদিতি একটি চমৎকার সেজ-গ্রিন ঘারারা বেছে নিয়েছিলেন। সিল্ক টিস্যু কাপড়ের ব্যবহারের কারণে এই পোশাকে এক স্নিগ্ধ ও মৃদু দ্যুতি ফুটে উঠেছে; পাশাপাশি এর নিখুঁত হাতের কাজ, দাবকা (dabka) ও জাল (jaal) কাজের কারুকাজ পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে এক রাজকীয় ও ক্লাসিক লুক। ঘারারার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর দারুণ ঘেরযুক্ত বা ছড়ানো গড়ন, যা হাঁটার সময় চমৎকারভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো সাজসজ্জায় এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। এই ঘারারার সঙ্গে মেরুন রঙের কারুকাজ ও সোনালি এমব্রয়ডারি পুরো পোশাকটিকে আরও বেশি চোখধাঁধানো করে তুলেছে।
নিজের মতো করে এই লুকে কীভাবে সাজবেন? ঘারারা পরলে খুব বেশি ভারী বা চটকদার গয়না পরার একেবারেই প্রয়োজন হয় না। একটি সুন্দর চোকার, মানানসই ছোট দুল এবং একটি মার্জিত মাং-টিকাই আপনার সম্পূর্ণ সাজের জন্য যথেষ্ট। আপনার চুল যদি নিচু করে খোঁপা বেঁধে তাতে তাজা ফুলের মালা বা গাজরা জড়িয়ে নেন, তবে সাজে এক ঐতিহ্যবাহী চমৎকার আমেজ চলে আসবে। পক্ষান্তরে, যদি আপনার আধুনিক লুক পছন্দ হয়, তবে চুল খোলা রেখে কেবল একটি আকর্ষণীয় বা ‘স্টেটমেন্ট’ দুল পরেই বাজিমাত করতে পারেন।
মূল কথা হলো, উৎসবের ফ্যাশন মানেই কেবল পুরোনো ধাঁচের পুনরাবৃত্তি করা নয়। প্রকৃত স্টাইলিং হলো যেকোনো চিরাচরিত পোশাকের ধরনে এমন এক নিজস্ব ও অনন্য ছোঁয়া যোগ করা, যা আপনার ব্যক্তিত্বকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে। বলিউড ডিভা অদিতি রাও হায়দারির এই চমৎকার সাজসজ্জা আবারও প্রমাণ করে যে ‘ঘারারা’ ও ‘চোগা’-র মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাকগুলিও কতটা সতেজ ও আধুনিক মনে হতে পারে। এর জন্য মূলত প্রয়োজন কেবল সঠিক রঙের সুনির্দিষ্ট সমন্বয়, পরিমিত গয়না বা অনুষঙ্গ এবং আপনার নিজস্ব ব্যক্তিগত শৈলীর এক চমৎকার প্রকাশ।