দিল্লিতে মর্মান্তিক কাণ্ড! পরকীয়া বা প্রেমের সন্দেহে ১৬ বছরের বোনকে খুন করে স্যুটকেসে বন্দি করল ভাই!

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুরারি এলাকা থেকে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর, হৃদয়বিদারক এবং রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে এসেছে, যা সমগ্র দিল্লি জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক অহংকার এবং অন্ধ সন্দেহের জেরে এক আপন দাদা তার মাত্র ১৬ বছরের তরুণী চাচাতো বোনকে ঠান্ডা মাথায় শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। শুধু তাই নয়, নিজের কুকীর্তি এবং নৃশংস অপরাধ ঢাকতে সে মৃতদেহটি একটি বড় স্যুটকেসে ভরে রাতের অন্ধকারে বাইকে করে বুরারির একটি নির্জন জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসে। তবে শেষরক্ষা হয়নি; পুলিশের তৎপরতায় ঘাতক ভাই বর্তমানে আইনগতভাবে গ্রেফতার হয়ে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত ভাইয়ের নাম অবিনাশ। নিহত কিশোরী ও অভিযুক্ত অভিযুক্ত ভাই দুজনই মূলত বিহারের স্থায়ী বাসিন্দা। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে একটি প্রেমঘটিত ব্যাপার বা পরকীয়া সংক্রান্ত অন্ধ সন্দেহ। আউটার নর্থ ডিস্ট্রিক্টের স্পেশাল স্টাফ টিমের কাছে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত গোপন তথ্য পৌঁছানোর পরই পুরো ঘটনাটির ওপর নজরদারি শুরু হয়। সেই গোপন তথ্যের নিখুঁত ভিত্তিতেই দিল্লি পুলিশের একটি চৌকস দল ফাঁদ পাতে এবং সন্দেহভাজন অবিনাশকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

পুলিশের কাছে দীর্ঘ ও কড়া জেরার মুখে অভিযুক্ত অবিনাশ শেষ পর্যন্ত তার অপ্রকৃতিস্থ আচরণ ছেড়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। শুধু তাই নয়, সে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের সোজা বুরারির অজিত বিহারের সেই নির্দিষ্ট ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়, যেখানে সে ওই তরুণীর নিথর দেহ একটি স্যুটকেসের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ১৬ বছরের কিশোরী বিহারের এক যুবকের সাথে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলত, যা তার দাদা বা ভাই কোনোভাবেই মেনে নিতে পারত না। এই নিয়ে পারিবারিক স্তরে অশান্তিও তৈরি হয়েছিল।

ঘাতক ভাই ভেবেছিল, বোনকে বিহার থেকে দিল্লি নিয়ে এলে হয়তো এই যোগাযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু দিল্লিতে আসার পরও ওই কিশোরী গোপনে সেই যুবকের সাথেই যোগাযোগ বজায় রাখে এবং তাকে দিল্লি আসার জন্য অনুরোধ করে। আর ঠিক এই বিষয়টি জানতে পেরেই চরম ক্ষোভে ও অন্ধ আক্রোশে আচ্ছন্ন হয়ে অবিনাশ তার অবুঝ বোনকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করে। খুন করার পর সে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় মাঝরাতে মৃতদেহটি একটি সুটকেসে ভরে নিজের মোটরসাইকেলে তুলে অজিত বিহারের নির্জন ঝোপঝাড়ের মধ্যে ফেলে দিতে যায়।

কিন্তু কপাল খারাপ থাকায়, মৃতদেহটি ফেলে দিয়ে বাইক নিয়ে ফেরার পথেই দিল্লি পুলিশের একটি নিয়মিত টহলরত দল তাকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে থামায়। পুলিশের সামনে পড়ার পরই অবিনাশ ঘাবড়ে যায় এবং তার অস্বাভাবিক হাবভাব দেখে পুলিশের সন্দেহ আরও তীব্র হয়। এরপর পুলিশি জেরার মুখে সে সমস্ত ঘটনা অকপটে স্বীকার করে নেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্যুটকেসবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। বর্তমানে বুরারি থানার পুলিশ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।