১২০ বছরের কঠোর সাজা! দুই নাবালিকা সৎ মেয়েকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় আদালতের!

কেরলের মাঞ্জেরির একটি বিশেষ পকসো আদালত এক যুগান্তকারী ও দৃষ্টান্তমূলক রায় দান করেছে। স্কুলের ছুটিতে বাড়ি থাকাকালীন ১১ ও ১২ বছর বয়সি দুই নাবালিকা সৎ মেয়েকে দীর্ঘ সময় ধরে লাগাতার যৌন নির্যাতন করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সৎ বাবাকে মোট ১২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত দোষী ব্যক্তিকে ৯০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানাও করেছে। সোমবার মাঞ্জেরির বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক কেএস বরুণ এই কঠোর রায় ঘোষণা করেন।

কোন্দোত্তি থানায় নথিভুক্ত প্রথম মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সরকারি পক্ষের আইনজীবী আদালতে জোরালো সওয়াল করে জানান যে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ২০২৫ সালের ৮ জুনের মধ্যে অভিযুক্তের বাড়িতে ১২ বছর বয়সি এক কিশোরী বারবার পেনিট্রেটিভ সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট বা যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছিল। এই ঘটনায় আদালত পকসো আইনের বিভিন্ন কঠোর ধারার অধীনে দোষী ব্যক্তিকে প্রতিটির জন্য ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয়। এই নির্দিষ্ট মামলাটিতেই মোট সাজার মেয়াদ দাঁড়িয়েছে ৬০ বছর এবং জরিমানার পরিমাণ ৪৫ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলাটিতে সরকারি পক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি গত বছর ২৭ মার্চ থেকে ৮ জুনের মধ্যে তার অপর সৎ মেয়েকেও একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেছে। যখন ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটি তাদের যৌথভাবে বসবাস করা ভাড়াবাড়ির শোওয়ার ঘরে ঘুমাচ্ছিল, সেই সুযোগেই এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করা হয়। আদালত পকসো আইনের প্রতিটি ধারার অধীনে এই অপরাধের জন্য পুনরায় দোষী ব্যক্তিকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়। দ্বিতীয় এই মামলাটিতেও মোট সাজার মেয়াদ হয়েছে ৬০ বছর এবং জরিমানার পরিমাণ ৪৫ হাজার টাকা।

সব মিলিয়ে দুটি মামলার সমস্ত সাজা একত্রে যোগ করে দোষী ব্যক্তিকে মোট ১২০ বছরের দীর্ঘ সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৯০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত জরিমানা অনাদায়ে দোষীকে অতিরিক্ত ১৮ মাস কারাবাস করতে হবে, যার মধ্যে ছয়টি অপরাধের প্রতিটির জন্য অতিরিক্ত তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি আদালত এও জানিয়েছে যে, বিচার চলাকালীন দোষী ব্যক্তির রিমান্ডে কাটানো সময়কাল তার মূল সাজা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

আদালতের পক্ষ থেকে আরও অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারক জানান, দোষী ব্যক্তি কর্তৃক পরিশোধিত সমস্ত জরিমানার অর্থ সরাসরি দুই নির্যাতিতাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। এর পাশাপাশি, সরকারি ‘ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ প্রকল্প’-এর আওতায় দুই ভুক্তভোগীকে অতিরিক্ত আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসন প্রদানের জন্য আদালত ‘জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ’-কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে।

মামলার তদন্ত ও সরকারি আইনজীবীর পেশ করা তথ্য থেকে জানা গেছে যে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ওই দুই নিষ্পাপ বোনের সৎ বাবা ছিল। ঘটনার প্রায় আট বছর আগে মেয়েদের জন্মদাতা বাবা তাদের পরিবার ছেড়ে চলে যান এবং পরবর্তীতে তাদের মা এই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুনর্বিবাহ করেন। পড়াশোনার প্রয়োজনে দুই বোন একটি স্থানীয় অনাথ আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করত এবং কেবল স্কুল বন্ধ থাকা বা ছুটির দিনগুলিতেই তারা মায়ের বাড়ি আসত। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ছুটির দিনে বাড়িতে থাকাকালীন লম্পট সৎ বাবা তাদের ওপর এই পৈশাচিক ও অকথ্য নির্যাতন চালায়।