‘নানির মন্দির’ ও ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি! বেলুচিস্তানের হিংলাজ মাতা মন্দির নিয়ে যা বললেন মীর ইয়ার

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে অবস্থিত ঐতিহাসিক হিংলাজ মাতা মন্দির নিয়ে সম্প্রতি এক বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বিশিষ্ট বালোচ নেতা মীর ইয়ার বালুচ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি সুনির্দিষ্ট ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করে তিনি বেলুচিস্তানে আগত সমস্ত হিন্দু তীর্থযাত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে এবং সংবাদমাধ্যমে এখন অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
নিজের পোস্টে মীর ইয়ার বালুচ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বালোচ জনগোষ্ঠীর কাছে পবিত্র হিংলাজ মাতা মন্দিরটি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সাথে ‘নানির মন্দির’ নামে পরিচিত। প্রতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বী বহু ভক্ত মা ভবানী দেবীর অপার আশীর্বাদ লাভের উদ্দেশ্যে সুদূর এই মন্দিরে তীর্থযাত্রায় আসেন। মন্দিরের পবিত্র প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ভক্তদের কণ্ঠে ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘জয় হিংলাজ মাতা’ ধ্বনি উচ্চারিত হয়, যা সেখানে এক অভূতপূর্ব ও পবিত্র ধর্মীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে।
তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বালোচ নেতা বলেন, “নির্ভয়ে আসুন, তীর্থযাত্রীগণ; আপনারা আমাদের অত্যন্ত সম্মানিত অতিথি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তীর্থযাত্রীরা যখন বেলুচিস্তানের দীর্ঘ মহাসড়ক, বন্ধুর রাস্তা, দুর্গম মরুভূমি কিংবা পাহাড়ের বুক চিরে যাতায়াত করেন, তখন তাঁদের মনে কোনো ধরনের ভীতি থাকা উচিত নয়। কারণ তাঁরা কোনো অচেনা দেশের আগন্তুক নন, বরং তাঁরা এই মাটির সম্মানিত অতিথি। বালোচ জনগণের ঐতিহ্যগত অতিথি আপ্যায়নের সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে, অতিথিদের সুরক্ষা প্রদান করা তাঁদের পবিত্র দায়িত্ব ও সম্মানের বিষয়।
ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্বের দিক থেকে হিংলাজ মাতা মন্দির হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত উচ্চাসনে রয়েছে। হিন্দু পুরাণ ও বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী সতীর পবিত্র দেহাংশ পতনের ফলেই ৫১টি শক্তিপীঠের সৃষ্টি হয়েছিল। কিংবদন্তি রয়েছে যে, দেবী সতীর ব্রহ্মরন্ধ্র বা মস্তকের চূড়া এখানেই পতিত হয়েছিল, যার ফলে এটি অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া, লঙ্কা বিজয়ের পর ব্রহ্মহত্যার পাপ থেকে মুক্ত হতে স্বয়ং ভগবান রামচন্দ্র এই স্থানে এসে মায়ের আরাধনা করেছিলেন বলে স্থানীয় বিশ্বাসে প্রচলিত রয়েছে।
আগামী দিনে এই পবিত্র তীর্থস্থানের পরিকাঠামো উন্নয়নের বড়সড় পরিকল্পনার কথাও মীর ইয়ার বালুচের পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা, আধুনিক আবাসন, বাজার, পর্যটন-সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা এবং জরুরি পরিষেবা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো যাতে বিশ্বজুড়ে আগত লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও পর্যটকরা সম্পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্য, পূর্ণ মর্যাদা এবং মনের শান্তিতে তাদের ধর্মীয় যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেন।