‘পাশে আছি,’ ফোন করে CJP কর্মীর সঙ্গে কথা বললেন মমতা? রাজনৈতিক খুন নিয়ে তুঙ্গে তরজা!

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) কর্মসূচিতে ছেলের যোগদানের জেরে চরম মূল্য চোকাতে হলো এক পরিবারকে। বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিষুন্ডা গ্রামে সিজেপি সমর্থকের বাবাকে পিটিয়ে খুনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিতে সোমবার তাঁদের বাড়িতে যান তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ফোনে কথা বলেন নিহতের ছেলে শেখ আব্দুল হাফিজের সঙ্গে।

ঠিক কী ঘটেছিল বাঁকুড়ার ইন্দাসে?

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ককরোচ জনতা পার্টির যন্তর মন্তরের আন্দোলন শেষে বাড়িতে ফিরে তার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন শেখ আব্দুল হাফিজ। এরপর গত ১২ অগাস্ট সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ বার্তা প্রচারের পর ১৩ অগাস্ট তিনি স্থানীয় করিষুন্ডা পশ্চিমপাড়া প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে পরিকাঠামো নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। এর পরেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়।

নিহতের ছেলের অভিযোগ, ওই দিন রাতেই একদল দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। তাঁকে মারধোর করা হলে তিনি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। সেই সময় ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা বৃদ্ধ বাবাকে নৃশংসভাবে মারধোর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ইন্দাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ তারিখ রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের হাত রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্ব। এদিকে, এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার ইন্দাস থানায় জমায়েতের ডাক দিয়েছে সিজেপি। সবমিলিয়ে, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।