মহাকাশ যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য ভারত! নতুন ‘প্রজেক্ট ভেদা’ দিয়ে চিন-আমেরিকাকে টক্কর দিতে আসছে গোপন অস্ত্র!

ভারত এবার মহাকাশ যুদ্ধ এবং স্পেস ডিফেন্স বা মহাশূন্য প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের সামরিক ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্যে এক অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত দ্রুতগতির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও-এর হাত ধরে সামনে আসা ‘প্রজেক্ট ভেদা’ (VEDA)-কে আধুনিক প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভিইডিএ বা ‘ভেহিকেল ফর ডিফেন্স অ্যাপ্লিকেশন’ (Vehicle for Defence Application)-কে ডিফেন্স স্পেস এজেন্সির জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকর মোবাইল ডিফেন্স স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভিইডিএ-কে প্রথাগত ও চিরাচরিত রকেট লঞ্চ সিস্টেম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং অভিনব উপায়ে নকশা করা হয়েছে। এটিকে ভারী ও সুবিশাল ট্রান্সপোর্টার ইরেক্টর লঞ্চার বা টিইএল (TEL)-এর ওপর খুব সহজেই স্থাপন করা সম্ভব। এর অর্থ হলো, এই অত্যাধুনিক সিস্টেমটিকে উৎক্ষেপণের জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থায়ী লঞ্চ প্যাডের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হবে না। একটি মোবাইল এবং ক্যানিস্টারভিত্তিক লঞ্চিং সিস্টেম হওয়ার কারণে এটিকে খুব সহজেই দেশের প্রয়োজনমতো যেকোনো গোপন স্থান থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। ফলে শত্রু দেশের পক্ষে ভারতের এই ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণ পরিকাঠামো বা লঞ্চ ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে আগে থেকেই চিহ্নিত করে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

এই বিশেষ সিস্টেমে অত্যন্ত শক্তিশালী সলিড ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানিযুক্ত রকেট মোটর ব্যবহার করা হবে। স্যাটেলাইট এবং এর সম্পূর্ণ উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাটিকে আগে থেকেই প্রস্তুত করে একটি সুরক্ষিত ও সিলবন্ধ ক্যানিস্টারের ভেতরে নিরাপদে মজুত রাখা যায়। এর ফলে কোনো জরুরি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মাত্র ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার স্বল্পতম সময়ের মধ্যে যেকোনো স্যাটেলাইটকে সফলভাবে কক্ষপথে বা অরবিটে স্থাপন করার অসাধারণ ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের ভূমিকা অপরিসীম। যোগাযোগ রক্ষা করা, নজরদারি চালানো, টার্গেট ট্র্যাক করা এবং রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে মহাশূন্যে উপস্থিত এই কৃত্রিম উপগ্রহগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শত্রু পক্ষ যদি কোনো কারণে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট অস্ত্র, শক্তিশালী সাইবার হ্যাকিং বা অন্য কোনো ধ্বংসাত্মক উপায়ে ভারতের কোনো স্যাটেলাইটকে অকেজো করে দেয়, তবে এই ভিইডিএ-এর মতো মোবাইল সিস্টেমের সাহায্যে নিমেষেই নতুন ছোট স্যাটেলাইট মহাশূন্যে পাঠিয়ে সেই শূন্যস্থান পূরণ করা যাবে। இதன் ফলে যুদ্ধ চলাকালীন ভারতের কমান্ড, কন্ট্রোল, কমিউনিকেশন এবং আইএসআর অর্থাৎ ইন্টেলিজেন্স, সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড রিকনেসান্স ক্ষমতা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হবে।

শুধু তাই নয়, ভিইডিএ-কে ন্যানো স্যাটেলাইট এবং কিউবস্যাটের মতো ক্ষুদ্রাকার কৃত্রিম উপগ্রহগুলির একটি বিশাল ক্লাস্টারকে একসঙ্গে মহাকাশের নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়ার উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছে। এই ধরনের আধুনিক স্যাটেলাইটগুলি মাটিতে অবস্থানরত ভারতীয় সামরিক কমান্ডারদের রিয়েল-টাইম বা কাছাকাছি সময়ে নিখুঁত নজরদারি, উন্নত রাডার ইমেজিং, ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড ছবি এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স সরবরাহ করতে বিশেষভাবে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, গোপন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ভিইডিএ-এর সম্ভাব্য ভূমিকা কেবল ডিফেন্স বা প্রতিরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি কাউন্টার-স্পেস অপারেশন বা আক্রমণাত্মক কাউন্টার-স্পেস মিশনেও সমানভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মধ্যে শত্রু দেশের স্যাটেলাইটগুলিকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা অকেজো করার জন্য ‘হার্ড-কিল’ এবং ‘সফট-কিল’ উভয় ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হার্ড-কিলের ক্ষেত্রে মহাকাশে অবস্থিত কোনো শত্রুর উপগ্রহকে সরাসরি ধাক্কা মেরে বা ইন্টারসেপ্টরের মাধ্যমে ধ্বংস করার ক্ষমতা বোঝানো হয়, অন্যদিকে সফট-কিলের ক্ষেত্রে জ্যামিং, ইলেকট্রনিক অ্যাটাক বা শত্রুর সেন্সরকে বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বের অন্যান্য মহাশূন্য শক্তিধর রাষ্ট্র যেমন চিনের কুয়াজৌ (Kuaizhou) কর্মসূচি এবং আমেরিকার দ্রুত-প্রতিক্রিয়াশীল মহাশূন্য উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টার সঙ্গে ভারতের এই নতুন ভিইডিএ প্রকল্পের সরাসরি তুলনা টানা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এই প্রযুক্তি ভারতের সামগ্রিক স্পেস ডিফেন্স বা মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলে এক বিশাল ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে চলেছে। এর সবথেকে বড় সুবিধা হবে ঝড়ের গতিতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, যেকোনো স্থানে মোবাইল বা ভ্রাম্যমাণ মোতায়েন এবং যুদ্ধের ঘোর বিপদের মধ্যেও নিজেদের স্যাটেলাইট সক্ষমতাকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যদি মহাশূন্যে ভারতের ‘চোখ ও কান’ অর্থাৎ যোগাযোগ ও নজরদারি ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে এই ভিইডিএ-এর মতো আধুনিক সিস্টেমের সুচারু ব্যবহার ভারতের কৌশলগত হাত শক্ত করবে এবং শত্রুর যেকোনো দুরভিসন্ধি সফলভাবে প্রতিহত করতে দেশের অদম্য শক্তিকে বহুলাংশে বাড়িয়ে তুলবে।