‘দিমাগী নক্সাল’ মন্তব্যে চরম রাজনৈতিক বিস্ফোরণ! পি চিদম্বরমের স্বীকারোক্তির পরই বিস্ফোরক দাবি হিমন্ত বিশ্ব শর্মার!

১৫ আগস্ট লাল কেল্লার প্রাঙ্গণ থেকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণে ব্যবহৃত ‘দিমাগী নক্সাল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক চরমপন্থা শব্দটি বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই বিশেষ শব্দটিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। সম্প্রতি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন যে, তাঁর এই ‘দিমাগী নক্সাল’ তকমা পেতে মোটেও লজ্জা নেই, বরং তিনি এমন তকমা নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। চিদম্বরমের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এক সাংবাদিক বৈঠকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, পি চিদম্বরম নিছক কোনো ‘দিমাগী নক্সাল’ নন, তিনি হলেন আদ্যোপান্ত একজন ‘পিওর নক্সালী’। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর পুরো কার্যকালের নিরপেক্ষ তদন্তেরও জোরালো দাবি তুলেছে বিজেপি শিবির।
সোমবার (১৭ আগস্ট) আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস কনফারেন্সে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন যে, দেশের মতো সংবেদনশীল রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীন পি চিদম্বরম যদি নিজে থেকেই নিজেকে ‘দিমাগী নক্সাল’ বলে দাবি করেন, তবে অতি অবশ্যই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর কার্যকালে ছত্তিশগড়ের মতো উপদ্রুত অঞ্চলে কংগ্রেসের প্রথম সারির একাধিক শীর্ষ নেতাকে বোমা বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, অথচ এত বড় ঘটনার পরেও কংগ্রেস সরকার নক্সালবাদ দমনে কোনো কঠোর বা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতে, চিদম্বরম নিজের দায়িত্বে থাকাকালীন সুপরিকল্পিতভাবে দেশ থেকে উগ্রপন্থী দমন অভিযানকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন কি না, সেই গুরুতর বিষয়টি খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
অন্যদিকে, এই একই ইস্যুতে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদীও কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভাষণে নির্দিষ্ট করে কারোর নাম নেননি, কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই ‘দিমাগী নক্সালী’রা নিজেরাই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ্যে নিয়ে চলে এলেন। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যকালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান যে, চিদম্বরমের আমলেই দেশের প্রায় ১৮০টি জেলা সরাসরি নক্সালবাদে আক্রান্ত ছিল এবং সেই সময় প্রায় ৫ হাজার নিরপরাধ সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। কংগ্রেসের শাসনকালে দেশজুড়ে নক্সালদের দৌরাত্ম্য এবং সংখ্যা যেভাবে জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল, তা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল।
বিজেপির প্রবীণ সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদও এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস দলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি বলেন যে, বর্তমান মোদী সরকারের আমলে জঙ্গলমহল ও দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে সশস্ত্র নক্সালবাদের কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তা এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু মানুষের মানিসকতা নক্সালপন্থী রয়ে গেছে। যারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে নক্সালদের কাজের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, তাঁরা আদতে মানসিক দিক থেকে নক্সাল বা শহুরে নক্সাল (Urban Naxal) ছাড়া আর কিছুই নন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন লাল কেল্লার প্রাচীর থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন যে, দেশের গভীর জঙ্গলে সক্রিয় সশস্ত্র নক্সালবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বিরাট ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে এবং এই হিংসাত্মক আন্দোলন আজ চূড়ান্তভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে অত্যন্ত জোরালোভাবে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, অস্ত্রের লড়াই ছাড়াও নক্সালপন্থী উচ্চাভিলাষী এবং উগ্র মানসিকতা সম্পন্ন ‘দিমাগী নক্সাল’রা সমাজের বিভিন্ন স্তরে এখনও ঘাপটি মেরে লুকিয়ে রয়েছে। এই ধরনের ক্ষতিকারক মানসিকতার মানুষদের চিহ্নিত করে কঠোর হাতে তাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় এসে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সুদূরপ্রসারী বক্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়, যার রেশ ধরে কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ শানিয়ে লেখেন—”I am proud to be a dimagi naxal!” অর্থাৎ, তিনি ‘দিমাগী নক্সাল’ হতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত। এই পালটা মন্তব্যই এখন দেশের রাজনৈতিক পারদকে একশো ডিগ্রিতে পৌঁছে দিয়েছে।