মহাকাল মন্দির চত্বরে পদপিষ্ট পরিস্থিতি, হুড়োহুড়িতে আহত বহু পুণ্যার্থী

হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবারে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিবমন্দিরগুলির পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশের বিশ্ববিখ্যাত উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরেও উপচে পড়েছে পুণ্যার্থীদের ভিড়। আর এই বিপুল জনস্রোতের মাঝেই প্রচণ্ড চাপে হঠাৎ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যদিও প্রশাসনের তরফে পদপিষ্ট হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে ভিড়ের চাপে বেশ কয়েকজন ভক্ত আহত হয়েছেন বলে খবর।
নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরে রেকর্ড ভক্ত সমাগম
এদিন শ্রাবণ মাসের সোমবারের সঙ্গে নাগপঞ্চমী ও মহাকালেশ্বরের শোভাযাত্রা একই দিনে পড়ায় উজ্জয়িনীতে ভক্তদের ঢল নেমেছে। বিশেষ করে নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরের দরজা বছরে মাত্র একবার খোলার কারণে সেখানে সকাল থেকেই মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মন্দির কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের আগেই প্রায় ৬ লক্ষ ১৯ হাজার পুণ্যার্থী মহাকাল দর্শন সম্পন্ন করেছেন।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার গুজব ও আতঙ্কের পরিবেশ
এত মানুষের ভিড়ের মধ্যে হর্ষসিদ্ধি মন্দির মোড়ের কাছে ব্যারিকেড দেওয়া এলাকায় একটি পাওয়ার সাপ্লাই পয়েন্ট বা ডিপি থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ও হাড়হিম করা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকজন ভক্ত ব্যারিকেডে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান এবং ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎক্ষণাৎ আসরে নামে নিরাপত্তারক্ষীরা। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সমস্ত অভিযোগ খারিজ করল মন্দির কর্তৃপক্ষ
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পদপিষ্ট হওয়া বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার যে সমস্ত দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে মন্দির কমিটি। কর্তৃপক্ষের দাবি, ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল এবং ভক্তদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বদাই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গুজবে কান না দেওয়ার জন্য পুণ্যার্থীদের প্রতি বিশেষ আর্জি জানিয়েছে মন্দির প্রশাসন।