টলিপাড়ায় ফের বিস্ফোরণ! অঙ্কিতার পর কি আইনি পদক্ষেপের পথে সোহিনীও? পরিচালক দেবালয়কে ঘিরে ঘনীভূত হল নতুন রহস্য

টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যকে ঘিরে চলা বিতর্ক এক নতুন ও জটিল মোড় নিয়েছে। অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তীর আনা গুরুতর অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার টলিপাড়ার অন্দরে গুঞ্জন জোরালো হয়েছে যে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহিনী সরকারও এই নির্মাতার বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটতে চলেছেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আলিপুর আদালতে গিয়ে নিজের লিখিত বক্তব্য এবং অভিযোগ পেশ করতে পারেন এই তারকা। তবে আদালতের অন্দরে ঠিক কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বা সুনির্দিষ্টভাবে কী অভিযোগ দায়ের হতে চলেছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।পরিচালক দেবালয়ের সঙ্গে সোহিনী সরকারের পেশাগত সম্পর্কের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রশংসিত ছবি ‘বিদায় ব্যোমকেশ’-এ দেবালয়ের পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সোহিনী। ওই চলচ্চিত্রে তাঁর সহ-অভিনেতা হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়। পরবর্তীকালে দেবালয় ভট্টাচার্যের পরিচালনায় তৈরি আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘পবিত্র পাপী’-তেও কাজের সুবাদে যুক্ত ছিলেন এই অভিনেত্রী। ফলে এই দুই শিল্পীর দীর্ঘদিনের পেশাগত যোগাযোগ ইন্ডাস্ট্রিতে সুপরিচিত।তবে সাম্প্রতিক সূত্র দাবি করছে যে, একটি নির্দিষ্ট পার্টির সান্ধ্য আসরকে কেন্দ্র করেই মূলত দেবালয় এবং সোহিনীর মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটেছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, সেই নির্দিষ্ট পার্টি থেকে বেরিয়ে আসবার পর দেবালয় ভট্টাচার্য ও সোহিনী সরকার একই গাড়িতে করে গন্তব্যের দিকে রওনা হন। আর সেই গাড়ির ভেতরের চলাচলের সময়ই পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে। অঙ্কিতা চক্রবর্তীর আইনি লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান আইনজীবী প্রিয়ম দে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, দেবালয় ও সোহিনী যখন একই গাড়িতে ফিরছিলেন, সেই সময় পরিচালক সোহিনীর গায়ে হাত দেন এবং একাধিক আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন।যদিও এই অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা এবং সেই রাতের ঘটনাপ্রবাহ ঠিক কী ছিল, তা নিয়ে সম্পূর্ণ ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। সোহিনী সরকারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ বা আদালতের নথিপত্র প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। সোহিনীর সম্ভাব্য এই আইনি পদক্ষেপের খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিকভাবেই বিনোদন জগতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অঙ্কিতা চক্রবর্তী ও দেবালয় ভট্টাচার্যের পূর্ববর্তী আইনি সংঘাত।চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী প্রকাশ্যে পরিচালক দেবালয়ের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। অঙ্কিতার দাবি ছিল, একটি সাফল্য উদ্যাপনের ব্যক্তিগত পার্টিতে দেবালয় তাঁকে বলপ্রয়োগ করে চুম্বনের চেষ্টা করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিপ্রভূমি তৈরি হতেই অঙ্কিতার আইনজীবী প্রিয়ম দে পরিচালকের কাছে কড়া আইনি নোটিস পাঠান। সেই নোটিসে আর্থিক কোনো ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবির বদলে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সদুত্তর না মিললে থানায় এফআইআর দায়ের করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য প্রথম থেকেই অঙ্কিতার সমস্ত অভিযোগ তীব্র ভাষায় অস্বীকার করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল যে, এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তাঁর কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং সম্পূর্ণভাবে তাঁর মানহানি করার দুরভিসন্ধি থেকেই এই দাবি করা হয়েছে। নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তিনিও পালটা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হাঁটেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অঙ্কিতার মন্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে পালটা নোটিস পাঠানো হয়েছিল এবং অবমাননার অভিযোগে প্রায় তিন কোটি টাকার মানহানির মামলাও দায়ের করা হয়েছে। অর্থাৎ, অঙ্কিতা ও দেবালয়ের সেই আইনি লড়াই ইতিমধ্যেই আদালতের আঙিনায় গড়িয়েছে। এর মধ্যেই সোহিনী সরকার যদি সত্যি সত্যিই আদালতের দ্বারস্থ হন, তবে দেবালয় ভট্টাচার্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের বহর ও তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই পরিচালকের সঙ্গে কাজ করা দুই প্রথম সারির অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে এমন পৃথক ও গুরুতর অভিযোগ যখন ভিন্ন সময়ে সামনে আসে, তখন তা পুরো টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে গভীর প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি দিক হলো, সোহিনী সরকারের আনীত সম্ভাব্য অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি। আলিপুর আদালতে তিনি শেষ পর্যন্ত সশরীরে উপস্থিত হন কি না, কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয় কি না এবং এই সমগ্র নতুন পরিস্থিতিতে পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, তার উপরই গোটা ঘটনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। দেবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান যে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় এই মুহূর্তে তিনি অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে চান না। ফলে কোনো পক্ষকে এখনই অপরাধী সাব্যস্ত করার অবকাশ নেই; একমাত্র আইনি প্রক্রিয়াই এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করবে।