“ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাস্ত নয়!” নিউটাউনে দলের জনপ্রতিনিধিদের চরম সতর্কবার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বরাবরই অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়ে এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলীয় নীতি অনুযায়ী দুর্নীতির প্রশ্নে সবসময়ই জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। এবার সরাসরি দলের বিধায়কদের উদ্দেশে আরও কঠোর ও হুঁশিয়ারি ভরা বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “প্রচুর ত্যাগের পর রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি, তাই দলের ক্ষমতার ন্যূনতম অপব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।”

নিউটাউনে আয়োজিত বিজেপির বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দলের নাম ও পদ ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ বা বরদাস্ত করা হবে না। যদি কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে দল প্রয়োজনে সেই সমস্ত বিধায়কদের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। শমীক ভট্টাচার্যের দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্পষ্ট উচ্চারিত হয় যে, বিজেপি কোনো সাধারণ পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় আসেনি, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই এবং বহু নেতাকর্মীর আত্মত্যাগ ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে রাজ্যে সরকারে এসেছে। সুতরাং, সেই অর্জিত ক্ষমতা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে ব্যবহার করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হবে না। দলের নাম বা বিধায়ক পদকে ঢাল বানিয়ে কেউ যদি সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব খাটান কিংবা কোনো ধরনের অবৈধ সুবিধা আদায় করার অপচেষ্টা চালান, তবে দল কঠোর হাতে তা দমন করবে।

শমীক ভট্টাচার্যের উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাজ্যজুড়ে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জমা হওয়া নানা অভিযোগ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ আসছে বলে তিনি দাবি করেন। উত্তরবঙ্গ হোক কিংবা দক্ষিণবঙ্গ, দমদম থেকে শুরু করে নিউটাউন—বিভিন্ন আঞ্চলিক এলাকা থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এই সমস্ত নেতিবাচক খবর পৌঁছচ্ছে। এই ধরনের গুরুতর অভিযোগগুলোকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া হবে না বলে দলীয় বিধায়কদের খুব স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি আরও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, দলের কিছু বিধায়ক হয়তো মনের ভুলেই এমন ধারণা পোষণ করছেন যে তাঁরা সম্পূর্ণরূপে নিজেদের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা ও শক্তিতেই নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। এই ভ্রান্ত ধারণা অবিলম্বে ঝেড়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাদের এই দুর্দান্ত জয়ের পেছনের মূল শক্তি হলো সুসংগঠিত দলের নিরলস পরিশ্রম, সাধারণ কর্মী ভাইদের আত্মত্যাগ এবং বহু মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম। তাই সমস্ত বিধায়কদের নিজেদের প্রকৃত দায়িত্ব এবং দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি অটুট দায়বদ্ধতার কথা সবসময় মনে রাখতে হবে।

বিধায়কদের একটি নির্দিষ্ট অংশের বিরুদ্ধে সরাসরি তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগ তুলেও অত্যন্ত জোরালোভাবে সরব হয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, দলের কোনো কোনো নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক নাকি প্রোমোটারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফিতে নিয়ে ফ্ল্যাট মাপতেও সরাসরি মাঠে নেমে পড়েছেন। দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এহেন লজ্জাজনক ও লোভী আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, যাঁরা এই ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাঁদের অবিলম্বে নিজেদের আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি দলীয় বৈঠকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছেন প্রয়োজনে ২০ জন বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করলেও দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। শুধুমাত্র বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন বলেই কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে নিজের খেয়ালখুশিমতো যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন না, এই কঠোর বার্তা দিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন শমীক ভট্টাচার্য।