স্বাধীনতা দিবসের আগেই বিরাট নাশকতার ছক বানচাল! পাক গুপ্তচর ও টিটিপি যোগে ধৃত বাংলার দুই প্রান্তের ৪ যুবক

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক প্রাক্কালে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বড়সড় ধাক্কা দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র যৌথভাবে নস্যাৎ করে দিল পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী। একদিকে যখন কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ঠিক তখনই অন্যদিকে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এক যুবককে। দেশের সংবেদনশীল সময়ে এমন জোড়া ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও নিরাপত্তার কড়া সতর্কতা জারি হয়েছে।
বেঙ্গালুরুর জিগানি এলাকা থেকে যে যুবককে আটক করা হয়েছে, তার নাম আসফুল মালিক। বয়স মাত্র ২৫ বছর। তার প্রকৃত বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নওপাড়া গ্রামে। কাজের সন্ধানে সে বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিল এবং জিগানির এপিসি সার্কেল এলাকায় বসবাস করত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে সে ওই এলাকার জিগানি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার একটি বেসরকারি সংস্থা টাটা অ্যাডভান্সড লিমিটেডে নিরাপত্তারক্ষী বা সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিল। নিয়মিত পেট্রোলিংয়ের সময় তার গতিবিধি পুলিশের সন্দেহজনক ঠেকে। এরপর তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
পুলিশের জেরায় আসফুল জানিয়েছে, পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের খবরে সে মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষুব্ধ ছিল। বিশেষ করে পাক সেনা বাহিনীর ভূমিকা, মসজিদ ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর লাগাতার হামলা এবং ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত নিয়ে পাকিস্তানের সরকারি অবস্থান তাকে চরম হতাশ করেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, এই আক্রোশের সুযোগ নিয়েই সাইবার জগতের কিছু উগ্রপন্থী চক্র তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাকে প্ররোচনা দিতে শুরু করে। ফেসবুকে আফগানিস্তানের বাসিন্দা ইমরান হায়দার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। ওই ইমরান হায়দার টিটিপি (TTP)-র সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। আসফুল ওই ব্যক্তির মাধ্যমেই আফগানিস্তানে পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল এবং ভিসার জন্য আবেদনও করে ফেলেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিবারের দায়িত্ব ও আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে সে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে। বর্তমানে তার মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক চ্যাট, অডিও ক্লিপ ও ভয়েস কল স্ক্যান করে আরও গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।
অন্যদিকে, বাংলার অন্য প্রান্ত অর্থাৎ কোচবিহারের দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থেকে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃতদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর হয়ে কাজ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রের মূল কাজ ছিল এদেশ থেকে ভারতীয় সিম কার্ড জোগাড় করে তা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রুট হয়ে সোজা পাকিস্তানে পাচার করা। শুধু গুপ্তচরবৃত্তি বা সিম পাচারই নয়, এর পাশাপাশি একটি বড়সড় জাল নোট তৈরির চক্রের সঙ্গেও ধৃতরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। স্বাধীনতা দিবসের আগে এই দুই বড় অভিযানে ধৃতদের জেরা করে দেশবিরোধী মডিউলের অন্য কোনো বড় মাথা লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।